স্টাফ রিপোর্টার, গোবরডাঙা: সাতদিন হতে চলল থেমে গিয়েছে মহাপ্রলয় ‘আমপানের’ তান্ডব। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত গোটা উওর ২৪পরগনা জেলা। ঝড়ের ধ্বংস স্তুপ সরিয়ে শুরু হয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তবুও এখনও বিদ্যুৎহীন গোটা জেলার অধিকাংশ এলাকা।

বুধবারের ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল এখনও আতঙ্ক কাটেনি মানুষের। ঝড়ে কার্যত লণ্ডভণ্ড গোটা গোবরডাঙা শহর। ভেঙেছে হাজার হাজার বাড়ি, ঝড়ের তান্ডবে উপড়ে গিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন বট গাছ গুলিও। বিদ্যুৎতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার ভেঙে দুমড়ে মুচরে গিয়েছে। বড় বড় গাছ এবং ডালপালা পড়ে অবরুদ্ধ অবস্থা রাস্তাঘাট। এরই মধ্যে জল ও বিদ্যুৎতের সমস্যায় কার্যত জেরবার গোটা গোবরডাঙার প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা।

পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত এলাকা কারেন্ট আর পানীয়জলের সমস্যায় নাকাল সাধারণ মানুষ। যদিও পুরসভা,পুলিশ প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মীরা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে চেষ্টার কোনও রকম ত্রুটি রাখছেন না। তবুও ঘূর্ণিঝড়ের ছয়দিনের পরও গোবরডাঙার বেশিরভাগ এলাকা কার্যত ডুবে রয়েছে অন্ধকারে। এদিকে সোমবারের পর থেকে গোবরডাঙার বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা অস্থায়ী খুঁটির সাহায্যে স্বাভাবিক করা হয়। যদিও বেশিরভাগ এলাকা এখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধিকাংশ বাসিন্দারা।

দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা সচলের দাবিতে পথে গাছের গুড়ি ফেলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গোবরডাঙা পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় কাউন্সিলর এবং শাসক শিবিরের আশ্বাস সত্ত্বেও মঙ্গলবার মেলেনি আলোর দেখা। যারফলে এদিন ফের বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, যতদিন না পুরো গোবরডাঙায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিকমতো সচল হচ্ছে, ততদিন কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতেও দেওয়া যাবে না কারেন্ট। যদিও আমজনতার এমন দাবির স্বপক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন অধিকাংশ বাসিন্দারা।

ফলে এখনও বিদ্যুৎ হীন গোবরডাঙা। অন্ধকারে ডুবে আছে পুর এলাকার বিভিন্নজন গ্রাম গুলি। অন্যদিকে, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় অনেকেই আশ্রয় শিবির বা খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন। যাদের বাড়ির চাল বা টিন উড়ে গিয়েছে তাঁদের অনেকরি তা পুনরায় মেরামত করার ক্ষমতা নেই। অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি গুলির ছবি তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও অসহায় পরিবার গুলির কাছে এখনও পৌঁছয়নি পলিথিন। ফলে ঘরের ছাউনি পলিথিন দিয়ে ঢাকতে পারেননি তাঁরা।

‘আমপানে’ ক্ষতিগ্রস্ত মৃৎশিল্পী উত্তম দে বলেন,” লকডাউনের কারনে এমনিতেই আড়াই মাস রোজগারহীন। তার উপর ঘূর্ণি ঝড়ের তান্ডবে এখন আমাদের জলে পড়ার যোগার। এমনিতেই ঠাকুরের বায়না নেই। দূর্গাপুজো হবে কিনা তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ায় মরার উপর যেন খাড়ার ঘাঁ নেমে এসেছে।” শুধু উওম একা নন।

একই অবস্থা গোবরডাঙার বেশিরভাগ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের। ফলে এই অবস্থায় প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাঁদের। তবে গোটা গোবরডাঙা শহরে কবে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই খবর। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ” এতবড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলাতে আরও কয়েকটা দিন সময়তো লাগবেই।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।