স্টাফ রিপোর্টার, বসিরহাট: স্বামী নিখিল জৈনকে নিয়ে আমফান বিধ্বস্ত বসিরহাটে ত্রাণ বিতরণ করলেন স্থানীয় সাংসদ নুসরত জাহান। হারোয়া ও মিনাখার ত্রাণ শিবিরে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী দেন তিনি। জানা যায়, মালঞ্চের মোড়ে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

এরপর সেখান থেকে মিনাখায় গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন। মিনাখা আর চৈতাল গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রাণ শিবিরে গিয়ে তিনি সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সকলকে মাস্ক পরতে বলেন। আর মাস্ক না থাকলে গামছা বা কাপড় জড়িয়ে কেমন করে মাস্ক পরা উচিত, সেটা বুঝিয়ে দেন।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকার বার্তা দেন। নতুন করে ঘর, বাড়ি তৈরি হবে বলেও জানান সাংসদ-অভিনেত্রী। এই সময় মনের জোর কখনও হারাতে নেই বলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বার্তা দেন অভিনেত্রী। ঘূর্ণিঝড় আমফানে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট। এখনও পর্যন্ত সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

আমফানের ধ্বংসলীলার পর টুইটারে নুসরত লিখেছিলেন, “এই সময় সকলকে পরস্পরের পাশে থাকতে হবে। সকলে মিলে প্রার্থনা করতে হবে, যাতে দ্রুত এই বিপর্যয় কেটে যায়।” এদিনও সবাইকে একই কথা বলেন তিনি। নুসরতের সঙ্গে নিখিল জৈনও ত্রাণ শিবিরে দুঃস্থদের হাতে খাবার তুলে দিয়েছেন। এদিন প্রথমে বসিরহাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক বৈঠকে স্বামী নিখিল জৈনকে নিয়ে গিয়েছিলেন নুসরত। স্বামী ছাড়াও দুই আপ্তসহায়কও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু বসিরহাট কলেজে ঢোকার মুখে নুসরতকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়।

তবে তিনি নিজের সাংসদ পরিচয় দেওয়ার পর প্রবেশের অনুমতি পান বলে জানা যায়। তাঁর সঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন নিখিলও। কিন্তু নুসরতের স্বামী ও দুই আপ্তসহায়ককে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।এসপিজির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, সাংসদকে একাই ঢুকতে হবে বৈঠকে।

তাঁর সঙ্গে কেউ ভিতরে যেতে পারবেন না। সেকথা শুনে রেগে গিয়ে বচসায় জড়ান নুসরত। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। নিখিল জৈন ভিতরে ঢুকতে না পারায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ। সেখান থেকেই ত্রাণ শিবিরে দিতে যান নুসরত।

যদিও এই বিষয়ে সাংসদ জানিয়েছেন, ” আমি এখন বসিরহাটে আমফান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে এসছি। আমি বিভিন্ন জায়গার শেল্টার হোমে গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করছি। প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক মিটিং ছিল বসিরহাট কলেজে। ওঁদের মন্ত্রীদের সঙ্গে। আমি আমার পার্টির সহকর্মীদের সঙ্গে ওখানে ছিলাম।আমি পরের সপ্তাহে সন্দেশখালি আর হিংগলগঞ্জের অঞ্চলে যাব। প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। আমি বসিরহাটের মানুষের সঙ্গে সব সময় আছি”

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব