কলকাতা:  সাইক্লোন আমফানের প্রায় ৪৮ ঘন্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধ্বংসের ছবি। নেটওয়ার্কের বাইরে বহু মানুষ। যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বহু মানুষের সঙ্গেই। এমনকি প্রশাসনের তরফেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে। ফলে কতটা ক্ষতি সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট তথ্য আসছে না সরকারের কাছে।

শুধু তাই নয়, সাইক্লোন আমফানের কারণে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে এতটা ধ্বংসলীলা চলেছে যে সেই সমস্ত এলাকাগুলি এখন যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে উঠেছে। এমনকি, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণাতেও নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। খোদ কলকাতাতেও ঠিক মতো কথা বলা যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যেই কেটে যাচ্ছে লাইন। সুপার সাইক্লোন আমফান চলে যাওয়ার পরেও কেন এমন অবস্থা? কেন মিলছে না নেটওয়ার্ক। যেখানে এক মুহূর্তের জন্যে মোবাইল ফোন ছাড়া চলে যায় না সেখানে এতদিন পর পরিস্থিতি ঠিক হতে এত দেরী? শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। নেই মোবাইল ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা।

জানা যাচ্ছে, বুধবার ভয়ঙ্কর সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়ার পর ব্যাপক ভাবে তাণ্ডবলীলা চালাতে শুরু করে স্থলভাগে। সেই সময় বিএসএনএল, এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া ও রিলায়েন্স জিও মিলিয়ে চারটি টেলিকম পরিষেবা সংস্থার মোট দুই থেকে আড়াই হাজারের বেশি মোবাইল টেলিকম টাওয়ার বন্ধ হয়ে যায় রাতারাতি ভাবে।

মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণেই বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত পরিষেবা। ঝড়ের তাণ্ডবের সময় সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গা গাছ পড়ে, ল্যাম্পপোস্ট উলটে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। যার ফলে এখনও বন্ধ বেশির ভাগ বন্ধ মোবাইল টেলিকম টাওয়ার।

বিএসএনএল কলকাতার চিফ জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিৎ পাল এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কলকাতা ও শহরতলিতে আমাদের ১,৭০০ মতো মোবাইল টাওয়ার রয়েছে। তার মধ্যে এখনও ৮০০ টাওয়ার বন্ধ। সিইএসসি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না-পাওয়াই এর কারণ। পাশাপাশি, আমাদের ১২৫টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের অধিকাংশতেই বিদ্যুৎ ফেরেনি। ফলে, আমাদের বহু গ্রাহকের ফিক্সড লাইন পরিষেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’ কার্যত একই অবস্থা অন্যান্য মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিরও।

প্রকাশিত খবর মোতাবেক, বৃহত্তর কলকাতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি টেলিকম টাওয়ার অচল ছিল। কলকাতায় কোনও অপারেটরই তাদের মোবাইল টাওয়ারে পাওয়ার ব্যাক-আপ হিসাবে জেনারেটর রাখে না। বেশিরভাগ জায়গায় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে ব্যাটারি রাখে থাকে। খুব বেশি হলে সেই ব্যাটারিগুলি খুব বেশি হলে ঘন্টা খানেক চলতে পারে। ফলে বুধবার থেকে জেলার বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই বিদ্যুৎ।

আর সেই কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক করা যায়নি পুরোপুরি। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই ব্যাপারেও নিশ্চিত ভাবে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি কিছু বলতে পারছে না। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ