সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই দূষনের বিশ্বে ভাঙাচোরা রাস্তা,আর তীব্র জ্যামের বিপরীতে, একটা পরিবেশ বান্ধব দুই চাকার বাহনে চড়ে ওঁরা ওদের গন্তব্যস্থলে যাতায়াত করে। ওঁরা বাড়তি সুবিধা, অনৈতিক দাবী আদায়ের উদ্যেশ্যে রাজপথে আসে না। ওঁরা চায় জীবনের নিরাপত্তা । চায় সাইকেলের জন্য পথ। এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ওঁরা সাইকেল লেনের দাবি নিয়ে পথে নেমেছে।

ওঁরা নভেরা। ওপার বাংলার এই সাইক্লিস্ট মেয়েরা সাইক্লিং করে, মেয়েদের সাইক্লিং শেখায় পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। এমনই সময় তাদের এই প্রতিবাদ কারণ এই বিশ্বে দূষণ এড়াতে যখন সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে তখন একজন এমনই সাইকের প্রেমীর মৃত্যু হচ্ছে দূষণ ছড়ানো গাড়ির ধাক্কায়। তাই ওঁরা পথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে শুধুমাত্র সাইকেল লেনের চাহিদা নিয়ে। হাতে, কাঁধে, পিঠে সাইকেল লেনের চাহিদা নিয়ে ওঁরা ঘিরে বেড়ালেন বাংলাদেশের রাজপথে। যার ছবি সারা বিশ্বের কাছে জেন বার্তা দিয়ে গেল সাইকেল লেনের প্রয়োজনীয়তা কতটা।

নভেরার সদস্যরা জানাচ্ছে , ‘এই মৃত্যুপুরী রাজপথে, আমাদের দুই চাকার পরিবেশ বান্ধব বাহনটির জন্য সমস্ত সড়ক এবং মহাসড়কে আলাদা লেন চাই।’ উদ্দেশ্য ৭ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় এক পর্বতারোহী, দৌড়বিদ, এবং সাইক্লিস্টের মৃত্যু। ওঁরা স্পষ্ট জানাচ্ছে , ‘আমরা হারিয়েছি এমন একজন নারীকে যে নারীবিদ্বেষী সমাজে ভীষণ সাহস নিয়ে লড়াই করে। আমরা আর কোনও এমন সাইকেলপ্রেমীকে পথ হারাতে চাই না। আমরা নিরাপদ সড়ক চাই।’

প্রসঙ্গত মৃত অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস খেলোয়াড় রেশমা নাহার রত্না পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষিকা। পছন্দ করতেন পর্বতের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, ৬,০০০ মিটারের পর্বত জয় করেছেন দু’বার এবং ইচ্ছে ছিল এভারেস্ট যাবার। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন দৌড়বিদও। বেশ কিছু ম্যারাথনেও অংশগ্রহণ করতেন।

ভারতের নেহরু মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে পর্বত আরহোন নিয়ে বেসিক এবং উচ্চতর প্রশিক্ষন গ্রহন করেছিলেন রেশমা। কিছুদিন আগেই সাইকেল কেনেন যাতায়াতের জন্য। গত ৭ আগস্ট ২০২০ তারিখ সকালে তিনি রানিং শেষ করে ঘরে ফিরছিলেন সাইকেল চালিয়ে। ঘাতক গাড়িটি ওঁকে আর ফিরতে দেয় নি, পাঠিয়ে দেয় না ফেরার দেশে।

নভেরার দাবি , ‘দুর্ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনও অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত ঘাতক ড্রাইভারও ধরা পরেনি। এই দুর্ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় এটাই এখন সময়ের দাবী। এভাবে যেন বৃথাই ঝরে না যায় আর কোনও প্রাণ। এভাবে আর কোনও পরিবার যেন না হারায় তাদের প্রিয়োজনকে।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা