স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কাজ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টনিক! লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি ফেরত দিলেন বীরভূমের এক তৃণমূল নেতা৷হকের টাকা ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি সিউড়ির ছাতরা গ্রামের একশো দিনের শ্রমিকরা৷

একশো দিনের টাকা শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকার থেকে সরাসরি জমা পড়লেও সেই টাকা পেতেন না গ্রামের মানুষ। সরকারি টাকা জমা পড়লেই সই করে রাখা উইথড্রল স্লিপ দিয়ে সেই টাকা তুলে নিতেন শাসক দলের ত্রিলোচন মুখোপাধ্যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ন্যায্য টাকা চাইলেই ওই নেতার হুমকির মুখে পড়তে হত৷ পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷

গত সপ্তাহে নজরুল মঞ্চের বৈঠকে কাউন্সিলরদের তৃণমূলনেত্রী কাটমানির ফেরতের নির্দেশ দেওয়ার পরই সাহস পান সাধারণ মানুষ৷ টাকা ফেরত চেয়ে প্রথম বিক্ষোভ হয় বীরভূমে৷ তারপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়ে৷ সিউড়ির ছাতরাতেও শুরু হয়ে বিক্ষোভ৷ গ্রামবাসীদের চাপে পড়েই এদিন ১৪১ জন শ্রমিককে ডেকে খাতায় সই করিয়ে টাকা ফেরত দেন ত্রিলোচন।

এ দিন সকালে একশো দিনের কাজে যুক্ত থাকা ১৪১ জন গ্রামবাসীকে খাতায় সই করিয়ে প্রত্যেককে ১ হাজার ৬৫০ টাকা করে ফেরত দেন এই তৃণমূল নেতা। কেন তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন তা নিয়ে প্রথমে মুখ খুলতে চাননি তিনি। পরে তাঁর দাবি, দলের সব নেতাই জানেন ওই টাকা নেওয়ার কথা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এদিন ত্রিলোচন যে দাবি করেছেন সেই একই দাবি করেছিলেন বোলপুরের সাংসদ শতাব্দী রায়৷ শতাব্দী বুঝিয়েছেন, শুধু নীচু স্তরের প্রতিনিধিরাই টাকা নেন তা নয়, অনেকেই ভাগ পান সেই টাকার। কারা ভাগ পান তা স্পষ্ট না করলেও তৃণমূল সাংসদ যা বলেছেন তাতে এটাই স্পষ্ট যে তৃণমূল কংগ্রেসে কাটমানির চেন সিস্টেম চলে। তিনি বলেন “যারা এক-দু পার্সেন্ট কাটমানি নিয়েছে তাদের ধরা হলেও কাটমানি কালচার বন্ধ করা যাবে না। কারণ, তখন দেখা যাবে যারা কাটমানির বেশিটা পায় তারা এক-দু পার্সেন্ট বেশি নেবে।”এদিন এই তৃণমূল নেতাও একই কথা বললেন৷

তবে সম্প্রতি তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে দাবি করেন, তৃণমূলের কর্মী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ৯৯.৯৯%-ই সৎ। গ্রামবাসীদের চাপে তৃণমূল নেতার ‘মানিব্যাক’করার পর তিনি কি বলেন সেটাই এখন দেখার৷