স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ‘কাটমানি’ বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না শাসক দলের নেতাদের কাছ থেকে। শুক্রবার সকাল থেকে বাঁকুড়া-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য, তৃণমূল নেতা অরুণ গরাইয়ের কেশিয়াকোল গ্রামের বাড়িতে ‘কাটমানি’ ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন অসংখ্য মানুষ। তিনি বাড়ি থেকে বেরোলে তাকে ঘিরেও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ‘কাটমানি’ দিতে বাধ্য মানুষজন৷

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি, নির্মল বাংলা প্রকল্পের শৌচাগার তৈরীর একটা অংশ তৃণমূলের নেতাদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জন যুক্ত থাকলেও তৃণমূল নেতা অরুণ গরাই তাদের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। পরে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করেছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। মুখের কথায় কাজ না হলে অনেক সময় ‘হুমকি’ দিয়েও টাকা আদায় করা হয়েছে বলে এদিন অনেকে দাবি করেন।

এদিন বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ষষ্ঠী যাদব, টুম্পা বাগরা বলেন, আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছিল। যেদিন ঐ টাকা ব্যাঙ্কে তুলি সেদিন বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে জোর করে ওই টাকার একটা অংশ আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। চাইলেও আমরা সেদিন প্রতিবাদ করতে পারিনি। এখন তারা প্রত্যেকেই ঐ টাকা ফেরৎ চান বলে জানান।

এদিন বিক্ষোভ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ পাণ্ডে বলেন, এই এলাকার সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা গরীব মানুষদের এক প্রকার হুমকি দিয়ে কাটমানি আদায় করেছে তৃণমূল। আর সেই টাকায় তৃণমূল নেতারা নিজেদের সম্পদ সৃষ্টি করেছে। ‘কাটমানি’র টাকা ফেরতের দাবি তারা জানাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

যদিও ‘অভিযুক্ত’ অরুণ গরাই সাধারণ মানুষের এই অভিযোগ মানতে নারাজ। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও তার দাবী। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও আন্দোনকারীরা জানিয়েছেন।