তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘কাটমানি’ কাণ্ডে জড়িয়ে থাকে একের পর এক নাম উঠে আসছে প্রকাশ্যে৷ প্রতিদিনই প্রায় সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে এই ইস্যু৷ আর এবার এই কাটমানিতে কাণ্ডে নাম জড়াল দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের। সোমবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানা এলাকার কাপিষ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের শুয়াড়া গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তৃণমূল-বিজেপি দুই পক্ষের কমপক্ষে সাত জন গুরুতর আহত অবস্থায় অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজু লাই ও সমরেশ অধূর্য্য নামে এলাকার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ নিয়েছিল। বিজেপি কর্মী ষষ্ঠী লোহার বলেন, ঐ দুই সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রামবাসীদের চাপের মুখে কাটমানির টাকা তারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেয়নি। সেকারণেই ওইদিন গ্রামে মিটিং ডাকা হয়েছিল। কিন্তু মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে সেই টাকা দিতে তারা অস্বীকার করে। এমনকি তাদের উস্কানিতে বেশ কয়েকজন মদ্যপ দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধোর করে বলেও তার অভিযোগ।

স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় মণ্ডলের দাবি, ঐ দুই সিভিক ভলান্টিয়ার কাটমানির টাকা নিয়েছিল। ১৫ তারিখের মধ্যে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে হুমকি দিতে থাকে। এই ঘটনার পর ওই দু’জনের নামে গঙ্গাজলঘাটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেও বেশ কয়েক জন মদ্যপ দুষ্কৃতীকে দিয়ে তারা বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপির লোকেরাই তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত তৃণমূল কর্মী ভৈরব বাউরী বলেন, আমরা কয়েকজন রাস্তার ধারে বসেছিলাম। বিজেপি কর্মীরা গালিগালাজ করতে থাকে। একই সঙ্গে তাদের মারধোরের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের আক্রমণের হাত থেকে বাড়ির মহিলারাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে তাদের চার কর্মী অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি বলে জানান তারা৷

তৃণমূল নেতা হৃদয় মাধব দুবে বলেন, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ‘বদলা নয় বদলে’র রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এক কালের সিপিএম হার্মাদরা রং বদলে বিজেপিতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অভিযুক্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার রাজু লাই ও সমরেশ অধূর্য্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য মেলেনি। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের পক্ষ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান হয়েছে।