বালুরঘাট: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে মিলছে না পরিষেবা। বালুরঘাটের ওই ব্যাঙ্কে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের দাবি জানাতে গেলে উলটে অপমানিত হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এমনই একগুচ্ছ অভিযোগ এনে এবার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন গ্রাহকরা।

বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের একাংশ দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, বেশ কয়েক মাস ধরেই ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বালুরঘাট প্রধান শাখায় পাশবই প্রিন্টিং বন্ধ রয়েছে।

ব্যাঙ্কের বাইরে ই-কর্নারে বই প্রিন্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও বারকোর্ড না থাকায় অধিকাংশ গ্রাহক সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। বারকোর্ডের জন্য বহুবার ব্যাঙ্কে আবেদন করা হলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ।

রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সব অভিযোগ ধৈর্য ধরে শোনেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক। গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ডেকে পাঠান জেলাশাসক নিখিল নির্মল। অবিলম্বের গ্রাহকদের সমস্যা মেটাতে কার্যকরী ভূমিকা নিতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে অনুরোধ জানান জেলাশাসক নিখিল নির্মল।

বালুরঘাটের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এক গ্রাহক শম্পা সরকার জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের বালুরঘাট শাখায় তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বহু মাস ধরে ব্যাংকে কাউন্টার থেকে বই প্রিন্টিং পরিষেবা বন্ধের কারণে তাঁদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বারকোর্ড না থাকায় ই-কর্ণার থেকেও পাশবই আপডেট করা যাচ্ছে না।

অনেকেরই বেশ কয়েকমাস আগে পাশবইয়ের পাতা শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের আর নতুন বই দেওয়া হচ্ছে না। এব্যাপারে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ। বাধ্য হয়েই তাঁরা জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন।

এদিকে, বালুরঘাটের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার অসিত সিকদার গ্রাহক পরিষেবা দেওয়ার সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।