আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন, আগে তারা আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি) নামে বিভিন্ন খুন সংঘটিত করেছে৷ গত বছর কলকাতায় ধরা পড়ে এই সংগঠনের কয়েকজন জঙ্গি৷ ভারত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে বাংলাদেশ পাচার ও পশ্চিমবঙ্গেই কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে খুনের টার্গেট নিয়েছিল এবিটি জঙ্গিরা

ঢাকা: কমিউনিস্ট নেতা তথা মুক্তচিন্তার লেখক, বিশাখা প্রকাশনীর কর্ণধার শাহজাহান বাচ্চুকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের নেপথ্যে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম জড়িত বলেই ধারণা বাংলাদেশ জঙ্গি দমন শাখার৷ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এমনই জানালেন৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, আনসার আল ইসলাম দ্বারা সংঘটিত আরও বুদ্ধিজীবী খুনের সঙ্গে বাচ্চুকে মেরে ফেলার মিল পাওয়া যাচ্ছে৷

আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন, আগে তারা আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি) নামে বিভিন্ন খুন সংঘটিত করেছে৷ সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর আনসার আল ইসলাম নামেই তারা হামলা চালায়৷ মাস কয়েক আগে কলকাতায় ধরা পড়ে এই সংগঠনের কয়েকজন জঙ্গি৷ ভারত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে বাংলাদেশ পাচার ও পশ্চিমবঙ্গেই কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে খুনের টার্গেট নিয়েছিল এবিটি জঙ্গিরা৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, সেই চক্র ভেঙে যেতেই সংগঠনটির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা ফের বাংলাদেশে চলে এসেছে ৷

আরও পড়ুন: এবিটি জঙ্গিদের নিয়ে যৌথ মঞ্চের পরিকল্পনা করেছিল ‘বাংলার বাঘ’

এদিকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মুন্সিগঞ্জের প্রাক্তন জেলা সম্পাদককে খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খুনিদের চিহ্নিত করেছে৷ সম্প্রতি প্রকাশ্যে তাঁকে গুলি করে এই তিন দুষ্কৃতি৷ ঘটনার সময় একটি দোকানে বসেছিলেন বাচ্চু৷ ছবি প্রকাশ করা হলেও খুনিদের ধরা সম্ভব হয়নি৷ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আনসার আল ইসলামের গ্রেফতার হওয়া সদস্যদের জেরা করে প্রাপ্ত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এর আগে আনসার আল ইসলাম যত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে সব ক্ষেত্রে তারা ধারালো অস্ত্র চাপাতি ব্যবহার করেছে। শাহজাহান বাচ্চুকে খুনের জন্য তারা প্রথম আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে খুন করল৷

গোয়েন্দারা মনে করছেন, শাহজাহান বাচ্চুকে খুনের স্থানটি যেহেতু খুবই জনবহুল ছিল, তাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পালানো সম্ভব নয়, এমন ধারণা থেকেই তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়৷ পরে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দিতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে খুনিরা পালিয়ে যায়।