চেন্নাই: চিপকে হাসতে হাসতে জয় ধোনিদের৷ মঙ্গলবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ছ’ উইকেট হারিয়ে লিগ টেবলে ফেরে এক নম্বরে চলে গেল চেন্নাই সুপার কিংস৷ সেই সঙ্গে ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত প্লে-অফে পৌঁছে গেল ধোনি অ্যান্ড কোং৷ উপলে প্রথম সাক্ষাতে সানরাইজার্সের কাছে ছ’ উইকেট হেরেছিল চেন্নাই৷ এদিন চিপকে তার বদলা নিলে সিএসকে৷ ধোনিদের পরের ম্যাচ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে৷

চিপকের বাইশগজে ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংস শুরুতেই ফ্যাফ ডু’প্লেসির উইকেট হারায়৷ কিন্তু ওয়াটসনের দুরন্ত ইনিংসে ম্যাচ জিতে নেয় সুপার কিংস৷ ৫৩ বলে ৯৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ওয়াটসন৷ ৬ ছক্কা ও ৯টি চার মারেন তিনি৷ তবে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় সিএসকে ওপেনারের৷ ভুবনেশ্বরের বলে উইকেটের পিছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ওয়াটসনকে ডাগ-আউটে ফেরান জনি বেয়ারস্টো৷

ওয়াটসন যখন আউট হয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন, তখন চেন্নাইয়ের জয় হাতের মুঠোয়৷ সেখান থেকেও অবশ্য ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান অম্বাতি রায়ডু ও কেদার যাদব৷ শেষ ওভারে ধোনিদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান৷ সন্দীপ শর্মার ওভারের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন কেদার৷ চতুর্থ ডেলিভারিতে রায়ডু আউট হলেও এক বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই৷ আগের ম্যাচে আরসিবি-র বিরুদ্ধে লাস্ট বল ড্রামায় ম্যাচ হেরেছিল সিএসকে৷

এদিন টস জিতে এদিন সানরাইজার্সকে প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন সিএসকে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি৷ দ্বিতীয় ওভারেই ফর্মে থাকা জনি বেয়ারস্টোয়ের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সানরাইজার্স৷ ব্যক্তিগত ০ রানে হরভজন সিংয়ের বলে ডাগ-আউটে ফেরন বেয়ারস্টো৷ কিন্তু শাহবাজ নাদিমের পরিবর্তে এদিন দলে ঢোকা মনীশ পান্ডে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে চেন্নাইকে পালটা চাপে রাখে৷প্ রথম বলেই ভাজ্জিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে খাতা খোলেন মনীশ৷ ওয়ার্নারের থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি৷ মাত্র ২৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মনীশ৷ আইপিএলে এটি ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি কর্নাটকের এই ডানহাতি৷ ৩৯ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নেন ভাজ্জি৷

মনীশ ও ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে ১১ ওভারেই সেঞ্চুরির গণ্ডি টপকে যায় সিএসকে৷ দ্বিতীয় উইকেটে ১১৫ রান যোগ করে ভাজ্জির শিকার হন ওয়ার্নার৷ তবে ডাগ-আউটে ফেরার আগে ৪৫ বলে দু’টি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন সানরাইজার্সের এই বাঁ-হাতি৷

ওয়ার্নার ডাগ-আউটে ফিরলেও ব্যক্তিগত ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন মনীশ৷ ৪৯ বলের ইনিংসে তিনটি ছয় ও সাতটি বাউন্ডারি মারেন তিনি৷ বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাইরে থাকার পর এদিন দারুণ প্রত্যাবর্তন করেন মনীশ৷ তবে ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর ২০ বলে ২৬ রান করেন বিজয় শংকর৷ তবে ১১তম ওভারে শতরানের গণ্ডি টপকানোর পর দু’শোর গণ্ডি টপকানোর সম্ভাবনা ছিল সানরাইজার্সের৷ কিন্তু শেষ দিকে সিএসকে বোলাররা ভালো বোলিং করায় ১৭৫ রানে থেমে যায় হায়দরাবাদ৷

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওয়াটসন৷ ৯৬ রানের ইনিংস খেলে টি-২০ ক্রিকেটে এদিন ৮ হাজার রানের গণ্ডি টপকে যান ওয়াটো৷ কিন্তু তৃতীয় ওভারে ডু’প্লেসি রান-আউট হয়ে ডাগ-আউটে ফিরলেও ওয়াটসন ও সুরেশ রায়নার ব্যাটে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে সিএসকে৷ সন্দীপ শর্মার এক ওভারে পাঁচটি বাউন্ডারি মারেন রায়না৷ ২৪ বলে ৩৮ রান করে রশিদ খানের বলে ডাগ-আউটে ফেরেন রায়না৷ চেন্নাইের কাছে হেরে ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরেই থাকল সানরাইজার্স৷