কলকাতা: মহাসপ্তমীতেই জনজোয়ারে ভাসল মহানগর৷ মহালয়ার দিন থেকেই প্রাণের উৎসবে মেতে উঠেছে বাঙালী৷ আর তো বাকি কটা দিন৷ এই তো সময় টুটিয়ে পুজো উপভোগ করার৷ বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলার৷ আর পেট পুড়ে খেয়ে মোটা হওয়ার৷ উৎসবের মেজাজ প্রায় মধ্যগগণে। যদিও সকালে আবহাওয়া দফতরের বৃষ্টির পূর্বাভাসে কিঞ্চিত শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল পুজো পাগল মানুষ৷ তাতেও দমেনি বাঙালী৷ সকালেই টিপ টপ হয়ে সেজে-গুজে গুটিগুটি পায়ে প্যান্ডেলমুখী শহরবাসী।

এখন ঠাকুর দেখা শুরু হয় মহালয়ার দিন থেকেই৷ তৃতীয়া-চতুর্থী থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে যায় দর্শনাথীদের ঢল৷ কারও প্ল্যান সারারাতের। কেউ আবার শুধুই হালকা মেজাজের আড্ডায় বিশ্বাসী। কেউ লাইন দিচ্ছেন কেএফসি-পিৎজা হাটে। কারও আবার বিরিয়ানি-তন্দুরী না হলে চলছে না। আর ছোটদের জন্য ভেঁপু, বেলুন এসব তো আছেই। দুপুরের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পর বিকেলের দিকে আকাশটাও মুখ তুলে তাকিয়েছে। বৃষ্টি আর নামেনি। সুতরাং ভয় না করেই রাস্তায় বেরিয়ে অবাধ আনন্দে মজেছে শহরবাসী। শুধু শহর নয়, শহরের বাইরের মানুষও কলকাতার পুজোর রেশ নিতে কলকাতামুখী।

এদিকে মণ্ডপে ভিড় টানতে যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে পুজো মণ্ডপগুলি৷ দক্ষিণ কলকাতার একডালিয়া এভারগ্রিন, দেশপ্রিয় পার্ক, ত্রিধারা, সুরুচি সংঘ, বাদামতলা ২৮ সংঘ, সেলিমপুর, চেতলা অগ্রণী সহ সব হেভিওয়েট ও আলোচিত ক্লাবের পুজোয় মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়েছে প্যান্ডেল ভ্রমণ৷

তবে সহজে জমি ছেড়ে দিতে রাজী নয় উত্তর৷ বাগবাজার, জগৎ মুখার্জী পার্ক, কুমোরটুলি পার্ক, আহিরীটোলা, চালতা বাগান, মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার- যেদিকে তাকানো যায় কালো মাথা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না৷

ভিড়ের নিরিখে কলকাতার আশেপাশের পুজোগুলোও পিছিয়ে নেই৷ শ্রীভুমি, লেকটাউন, দমদম পার্কের ভিড়ের জেরে ভিআইপি রোডের যান চলাচলে প্রভাব পড়েছে৷ মওকা বুঝে দাও মারছে অটোচালকরা৷ কুড়ি টাকার নীচে ভাড়া নিচ্ছে না কেউ৷ যারা ভাড়া শুনে আঁতকে উঠেছে তাদের বিশেষ পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছিলেন না অটোচালকরা৷ গত দু’দিনের মতোই সন্ধ্যা নামতেই শহরের দখল নিল কালো মাথার সারি। ডাকসাইটে পুজোগুলি তো বটেই, মোটামুটি নামডাক আছে, এমন পুজো মণ্ডপও ভরে গেল কালো মাথায়।