কলকাতা: আইপিএস রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কোনও রকম ক্ষোভ প্রকাশ করলে সেটা দলবিরোধী কাজ নয় বলেই অভিমত প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ৷ সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই রাজীব কুমারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন এই প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ৷ সেই পোস্টে রাজীব কুমার সম্পর্কে কুণাল মতামত প্রকাশ করেছেন৷

ফেসবুকের ওই পোস্টে কুণাল লিখেছেন, ‘‘আমাকে প্রায়শই জিজ্ঞেস করা হয়, আমি রাজীব কুমারের সমালোচনা করে দলবিরোধী কাজ করছি কি না। আমার জবাব: রাজীবকুমার নামে তৃণমূলে কোনো সহসভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা নেতা আছেন বলে আমার কাছে খবর নেই। ফলে আইপিএস রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আমি যদি ক্ষোভ জানিয়েও থাকি, সেটি দলবিরোধী কাজের বৃত্তে পড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’’

দলের সাপেক্ষে তাঁর অবস্থানও ব্যাখ্যা করে তিনি ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলাম। দলের বিরুদ্ধে আমার ইস্যুভিত্তিক অভিযোগ ও প্রতিবাদ। কিন্তু দল পরিবর্তনের কোনো ভাবনা আমার মধ্যে নেই। আমি অনেক আগেই দলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমি ভোটে প্রার্থী হতে চাই না। কেউ যেন না ভাবে আমি সেরকম কোনো লক্ষ্যে দলের বৃত্তে আছি। যে জেলজীবন থেকেও দলকে প্রতি মাসে সদস্যপদের চাঁদা দিয়েছে, জামিনের পর কেন্দ্রের দেওয়া টেলিফোন অ্যাডভাইসরি কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ফিরিয়ে দিয়েছে, তার সম্পর্কে সস্তা মূল্যায়ণ না করাই ভালো।’’

অবশ্য রাজীব কুমার সম্পর্কে তাঁর ক্ষোভ থাকলেও ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা নেই বলেই দাবি করেছেন কুণাল৷ এই বিষয়ে তিনি তাঁর অভিমত প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘রাজীব কুমারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। থাকার কথাও নয়। সারদার তদন্তপর্বে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আমার ক্ষোভ আছে। কয়েকজন প্রভাবশালীকে ছেড়ে দিয়ে বা আড়াল করে আমাকে কলঙ্কিত করে বলি দেওয়ার ব্যবস্থা তিনি এবং তাঁর টিম করেছিলেন। এখানেই আমার প্রতিবাদ। রাজীব কুমার নিরপেক্ষ থাকলে গোটা পরিস্থিতি অন্যরকম হত।’’

তবে রাজীব প্রসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ‘‘ রাজীব কুমার গ্রেফতার হবেন কি না, এটা আমার বিষয় নয়। হতেও পারেন। আবার নাও হতে পারেন। ওটা গৌণ। আসল কথা হল এত বছর পরেও রাজীবকে এই মামলায় জড়িয়ে পড়তে হল। শিলং যেতে হল। জেরায় বসতে হল। মুখোমুখি যৌথ জেরায় বসতে হল। সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তাঁর গ্রেফতার চাইছে, এই দিনটা দেখতে হল। গ্রেফতার যদি নাও হন, তাহলেও এই পর্বটাই ঈশ্বরের দেওয়া শাস্তি। পুলিশ কর্তাদের অনুরোধ করব, প্রভাবশালীদের কথা শুনে পক্ষপাতদুষ্ট অন্যায় অবিচার করার আগে রাজীব কুমারের মুখটা মনে করবেন। অকারণ অভিশাপের লক্ষ্যবস্তু হবেন না। ’’

তাছাড়া রাজীবকুমারের বিষয়ে এভাবে মতামত প্রকাশ যে তাঁর নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকারক সেটাও কুণাল ব্যক্ত করেছেন ওই পোস্টে৷ তাই লিখেছেন, ‘‘ আমি জানি, আমাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শুভানুধ্যায়ী বলেছেন, রাজীব নিয়ে জল বেশি ঘোলা হলে একাধিক প্রভাবশালী মহলের রাগ এসে পড়বে আমার উপর। নানারকম আঘাত আসতে পারে। আমি খুন হতে পারি, নিখোঁজ হতে পারি। মামলা খেতে পারি। কেন্দ্রীয় সংস্থাও “ব্যালেন্স” করতে বা আইপিএস লবির একাংশের চাপে আমাকে হয়রান করতে পারে। এত সব সত্ত্বেও আমি বলছি, আমি প্রস্তুত। আমি জ্ঞানত কোনো অন্যায় করি নি। যারা অন্যায় অবিচার করেছেন, তারাই যদি আবার নখ দাঁত বার করেন, মানুষ সব দেখবেন। সময় বিচার করবে।’’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ