নয়াদিল্লি: শত্রুপক্ষের ট্যাংক ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট মিসাইল নেই ভারতের কাছে। দ্রুত সেই মিসাইল নিয়ে আসার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানাল ভারতীয় সেনা। ডিওআরডিও এই মিসাইল তৈরি করার আগেই যেন সেগুলি নিয়ে আসা হয়, তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীতে এই মুহূর্তে অন্তত ৬৮,০০০ অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল ও ৮৫০ লঞ্চারের অভাব রয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তের জন্য যা দ্রুত প্রয়োজন। ইজরায়েলি স্পাইক মিসাইল বা আমেরিকার FGM-148 জাভেলিন মিসাইল দ্রুত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে বলল সেনা। গত বছরের শেষে ইজরায়েলের সঙ্গে ৮,৩৫৬টি মিডিয়াম রেঞ্জ স্পাইক মিসাইলের চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হয়। ওই চুক্তিতে ছিল ৩২১টি লঞ্চার।

৫০০ মিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তি বাতিল করে ভারত। একদিকে যখন, ইজরায়েল থেকেই ১৩১ বারাক সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল কেনার জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে ভারত, তার মধ্যেই এই ‘স্পাইক’ মিসাইলের চুক্তি বাতিল করা হয়। বিশ্বের ২৬ দেশ ‘স্পাইক’ মিসাইল ব্যবহার করে। গতিশীল কোনও যন্ত্রে আঘাত হানতে স্পাইকের জুড়ি মেলা ভার।

অনেক আলোচনা এবং খতিয়ে দেখার পরে দিল্লি ‘স্পাইক’ কিনতে চেয়েছিল। ইজরায়েলি সংস্থার পক্ষে বলা হয়েছে, ‘‌রাফায়েল দিল্লির সমস্ত দাবি মেনে মিসাইল তৈরি করতে চেয়েছিল। বরাতের আগেই চুক্তি বাতিল করা হল।’‌ ঠিক কি কারণে চুক্তি বাতিল করা হল, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। চুক্তি বাতিল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা।

১৪ জানুয়ারি চার দিনের জন্য ভারত সফরে আসছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রাফায়েলের সিইও–র তাঁর সঙ্গে আসার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, রাফায়েল ভারতীয় সংস্থাগুলোকে তাদের প্রযুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে গড়িমসি করছে। দিল্লি পরিষ্কার করেই জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আসতে হবে ‘‌মেক ইন ইন্ডিয়া’‌ পথে। মানে ভারতীয় কোনও সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে হবে বিদেশি সংস্থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে রাফায়েল তাদের পুরো প্রযুক্তি ভারতীয় সংস্থাকে দিতে চাইছে না। সেইজন্য এই চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।