লখনউ: ছবিটা ভাইরাল হয়েছে৷ হইচই পড়ে গিয়েছে৷ ছবিতে দেখা গিয়েছে মদের বোতল আর মাংসের নানা খাদ্য উপকরণ নিয়ে পার্টি চলছে জেলের ভিতর৷ তাতে সামিল কুখ্যাত অপরাধীরা৷ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের নৈনি সেন্ট্রাল জেলের এই ছবিতে চক্ষু চড়কগাছ সোশ্যাল মিডিয়ার৷

এই সব অপরাধীদের সবাই কুখ্যাত শার্প শ্যুটার৷ যাদের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের অভিযোগ রয়েছে৷ জেলের একটি সেলে বসে এই পার্টি চলছে৷ সংশোধনাগার, এমন একটি জায়গা যেখানে অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে অপরাধীরা আসে৷ কিন্তু এই ছবি দেখাচ্ছে, অপরাধীরা নিশ্চিন্তে জেলের আশ্রয়ে বসে মোচ্ছব করছে৷

ছবিটা ভাইরাল হতেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নেটিজেনরা৷ কীভাবে এই অনুমতি মিলল অপরাধীদের? কীভাবে জেলের মধ্যে বসেই মদের বোতল ও মাংসের মতো খাবার দাবার পেয়ে গেল এই সব অপরাধীরা? তাহলে কী এই প্রাকটিস দীর্ঘদিনের? জেলের মধ্যেই নিজেদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস আমদানি করা হয়? তাহলে জেল কর্তৃপক্ষ চুপ কেন? এত প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷

আরও পড়ুন : ‘বিজেপি পার্টি করলে মাথা কেটে নিয়ে যাব’ পোস্টারে চাঞ্চল্য় নিউটাউনে

অভিযোগ জেল কর্তৃপক্ষের সম্মতিতেই এই পার্টি চলে৷ অর্থাৎ মনে করা হচ্ছে এই মোচ্ছবের সঙ্গে জড়িত রয়েছে জেল কর্তৃপক্ষের একাংশই৷ না হলে জেলের মধ্যে এই ধরণের পার্টি করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়৷

সূত্রের খবর এই অপরাধীরা প্রাক্তন সাংসদ ও কুখ্যাত গাংস্টার আতিক আহমেদের স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়ার আগে এই মোচ্ছবে মেতে ওঠে৷ আতিককে আহমেদাবাদের সবরমতি জেলে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে৷ সেই উপলক্ষ্যেই এই পার্টি বলে খবর মেলে৷

যেসব কুখ্যাত অপরাধীরা এই মোচ্ছবে সামিল ছিল, তাদের মধ্যে উদয় যাদব, রানু, পরসাদ পতি রাজকুমার ও গদাউ পাসিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরেই রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছে জেল কর্তৃপক্ষ৷ তদন্ত শুরু হয়েছে৷ প্রয়াগরাজের ডিআইজি (কারা) বি আর বর্মা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন৷ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷