সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ঢাকার ঘরোয়া টুর্নামেন্টে মুখোমুখি আবাহনী এবং মোহামেডান। আর এক বল বাকি খেলার। শেষ বলেই ফয়সালা হবে। টানটান উত্তেজনা। ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক একজন ফিল্ডার দিলেন শর্ট লেগে। বললেন হেলমেট পড়ে ফিল্ডিং করতে। ফিল্ডার নাকচ করলেন। আর ওই একটা বলই কেড়ে নিল শর্ট লেগে দাঁড়ানো ওই ক্রিকেটারের জীবন। তিনি রমন লাম্বা। ক্রিকেট যে এক বলের খেলা তার প্রমাণ আবারও দিয়েছিল রমন লাম্বার ওই ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছে ভারত। ক্যাঙ্গারুর দেশ মানে চিন মিউজিক। অর্থাৎ পুরনো দিনের ক্রিকেটে বাম্পার বা আজকের শর্ট ডেলিভারি যা পিচে বাউন্স থুতনির দিকে ধেয়ে আসবে। এমনই যে কোনও ব্যাটসম্যানের পক্ষে অস্বস্তিকর। এমনই একটি বল শেষ করে দিয়েছিল ফিলিপ হিউজের জীবন।

চলতি ভারত অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মেলবোর্নেই টেস্টেই শর্ট লেগে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট লাগে নবাগত ময়ঙ্ক আগারওয়ালের, কিংবা গত অজি সফরে মিচেল জনসনের বাউন্সার বিরাট কোহলির হেলমেটে লাগার ঘটনা। ক্রিকেট মাঠে এমন দুর্ঘটনা বা ঘটনার প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। তেমনই এক ঘটনার শিকার ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার রমন লাম্বা।

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। খেলার শেষদিকে ব্যাটসম্যানের খুব কাছে শর্ট লেগে ফিল্ডিং করতে আসলেন রমন লাম্বা। তার কয়েক মুহুর্ত পরেই গুরুতর আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। আবাহনী ক্রিকেট দলের তৎকালীন ক্রিকেটার শেখ মামুন তখন খুব কাছ থেকেই দেখছিলেন মর্মান্তিক এই দূর্ঘটনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, খেলার মাত্র কয়েকটি বল বাকি থাকায় বিপদজনক ঐ স্থানে হেলমেট পড়তে চাননি রমন লাম্বা। তিনি বলছিলেন,“আমরা তাকে বলেছিলাম হেলমেট নিতে। কিন্তু সে বলল ‘আরে ইয়ার অনলি ওয়ান বল’।”

একইসঙ্গে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,“শর্ট বলে মেহরাব হোসেন অপি পুল করলে বলটি রমন লাম্বার মাথায় লাগে আর ১০ গজ দূরে পাইলট সেই বলটি ক্যাচ ধরেন। মেহরাব হোসেন অপি আউট, ম্যাচ আমি জিতেছি, কিন্তু রমন লাম্বাকে আর পাইনি। তিনদিন অজ্ঞান থাকার পর সে হাসপাতালে মারা যায়।”

শেখ মামুন এও বলছিলেন, রমন লাম্বার মৃত্যুটি তাদের দলের জন্য সতর্কবার্তাও দিয়ে গিয়েছিল। ক্রিকেট মাঠে দুর্ঘটনায় মৃত ক্রিকেটারের জন্মদিনে একটু মনে করা।