নয়াদিল্লি: করোনার জেরে স্তব্ধ বাইশ গজ। প্রায় দু’মাস হতে চলল বল গড়ায়নি ক্রিকেট মাঠে। অন্যান্য ক্রিকেটারদের মতো লকডাউনে এই সময় ক্রিকেটকে বড্ড মিস করছেন টেস্ট ক্রিকেটে জাতীয় দলের ডেপুটি অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। করোনা পরবর্তী সময় কেমন হবে ক্রিকেট। তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। রাহানেও মনে করেন করোনা পরবর্তী সময় ক্রিকেটারদের লাইফস্টাইলে এক বড়সড় পরিবর্তন আসবে।

সম্প্রতি অনলাইনে ক্রিকেট সংক্রান্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন পাঁচ দিনের ক্রিকেটে কোহলির ডেপুটি। সেখানে পুনরায় ক্রিকেট চালুর আগে ক্রিকেটারদের অন্ততপক্ষে একমাসের একটি যথাযথ প্র্যাকটিস সেশনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রাহানের কথায়, ‘যা পরিস্থিতি তাতে কোনওরকম প্রতিযোগীতামূলক ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার আগে আমাদের অন্ততপক্ষে তিন থেকে চার সপ্তাহের একটি প্র্যাকটিস সেশন প্রয়োজন।’

এখানেই না থেমে রাহানে আরও বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি আমার ব্যাটিং খুব মিস করছি এই সময়। কিন্তু সত্যি বলতে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে তবেই ক্রিকেট চালু করা উচিৎ।’ করোনার জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ এদেশে ক্রিকেট পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে এখনও কোনও নির্দেশিকা নেই বিসিসিআই’য়ের তরফে। অদূর ভবিষ্যতে ভারতে ক্রিকেট চালু হওয়া সম্ভব নয় বলে গতমাসের শেষদিকে এক বিবৃতি মারফৎ জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এমতাবস্থায় রাহানের মতামত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া লকডাউন পিরিয়ডে ফিটনেস বজায় রাখতে তিনি যথাসাধ্য পরিশ্রম করছেন বলে জানিয়েছেন রাহানে। ‘ট্রেনারের নির্দেশ মেনে আমি আমার ফিটনেস ট্রেনিং বজায় রেখেছি। ফ্রি ওয়েটের পাশাপাশি যোগাভ্যাসেও নিয়মিত সময় ব্যয় করছি।’ জানিয়েছেন রাহানে। করোনা পরবর্তী সময় ক্রিকেটে সেলিব্রেশনের ক্ষেত্রেও বদল আসবে বলে মনে করেন মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভ।

এপ্রসঙ্গে রাহানে জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় করোনা পরবর্তী সময় উইকেটের পর সেলিব্রেশনের ক্ষেত্রে পুরনো পন্থা অবলম্বন করবেন ফিল্ডাররা। ফিল্ডাররা নিজেদের ফিল্ডিং পজিশনে দাঁড়িয়ে কেবল হাততালি দিয়েই সেলিব্রেশনে মাতবেন। হয়তো করমর্দনের জায়গা নেবে নমস্তে।’ ২০২০ আইপিএল নিলামে রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে মুম্বইয়ে নথিভুক্ত হওয়া ব্যাটসম্যান আরও বলেন, ক্রিকেট যখনই চালু হোক না কেন, সমর্থদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেন গুরুত্ব পায় সমানভাবে।

তবে ক্রিকেটকে যেমন মিস করছেন তেমন লকডাউনের বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন দেশের হয়ে ৬৫টি টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান। রাহানের কথায়, ‘এই লকডাউন পিরিয়ড আমায় আরও ধৈর্যশীল করে তুলেছে। রুটিন মেনে চলতে শিখিয়েছে এবং অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’ তাই শেষ অবধি লকডাউনের ফলাফল তাঁর পক্ষে খারাপ নয়, বরং ভালো হবে বলেই মনে করেন মুম্বইকার।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব