ঢাকা: বিশ্বের অন্যতম রাউন্ড অলরাউন্ডার তথা বাংলাদেশ ক্রিকেট ধর্মঘট ডাকার নেতা বিদ্রোহী শাকিব আল হাসান ম্যাচ-ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত। এই কারণে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে।

আসন্ন ভারত সফরের আগে শাকিবের সঙ্গে জুয়াড়ি এক আগরওয়ালের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন যাবতীয় রহস্য। বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে শাকিব আল হাসানের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট জুয়াড়ি এই আগরওয়ালের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের বিষয়টি। আইসিসি তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে আগরওয়াল নাম নিয়ে শাকিবের সঙ্গে কথা বলেছিল চেন্নাইয়ের কোটিপতি হোটেল ব্যবসায়ী বিক্রম আগরওয়াল। ক্রিকেট জুয়া মহলে তার আর এক কোড নাম হল ভিক্টর। বিবিসি ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর, বিক্রম আগরওয়ালের চেন্নাইতে দুটি হোটেল আছে। কোটিপতি আগরওয়াল হোটেল ব্যবসায় প্রচুর লাভ করে। তারপরে জড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট জগতে। ভিক্টর পরিচয় বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সে কথা বলত।

এই বিক্রম ওরফে দীপক ওরফে ওরফে ভিক্টরের দেওয়া ম্যাচ ফিক্সিং প্রস্তাব গোপন করায় শাকিবকে সব ধরনের ক্রিকেটে দু’বছরের নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে দায় স্বীকার করা এর মধ্যে এক বছর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে।

শাকিবকে তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয় আগরওয়াল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি অলরাউন্ডার শাকিবের ফোন নম্বর আগরওয়াল জোগাড় করে তাঁর পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কয়ের সঙ্গে।

আইসিসি তদন্তে উঠে এসেছে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অলরাউন্ডার শাকিব। তবে সেই তথ্য আইসিসি বা বিসিবি কে জানাননি শাকিব আল হাসান। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে আইপিএল ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কারণে আগেও বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছে বিক্রম আগরওয়াল।

আইসিসি জুয়াড়িদের তালিকায় উপরের দিকে নাম রয়েছে বিক্রম আগরওয়ালের। প্রশ্ন উঠছে শাকিব আল হাসান ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও কেন তিনি বারবার বিক্রম আগরওয়ালের মতো চিহ্নিত জুয়াড়ি সঙ্গে চ্যাট করেছেন। এৎ কোন সদুত্তর মেলেনি।

জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে ফিক্সিংয়ের দায়ে নাটকীয় ভাবে গ্রেফতার হন বলিউড অভিনেতা বিন্দু দারা সিং এবং বিসিসিআই প্রাক্তন সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা গুরুনাথ মায়াপ্পন। সেই ঘটনায় দু’জনের সঙ্গে ভিক্টর ওরফে বিক্রমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।