কল্যানী: দিনদু’য়েক আগে যে দলটাকে গোলের মালা পরিয়েছিল পড়শি মোহনবাগান, সেই দলটাকে হারাতেই  হিমশিম খেল ইস্টবেঙ্গল। তবু কল্যানীতে আই লিগের চতুর্থ ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়ার ছেলেরা। সৌজন্যে স্প্যানিশ বসের মাস্টারস্ট্রোক। শনিবাসরীয় কল্যানীতে ডগলাস দ্য সিলভার ট্রাউ এফসি’কে ২-১ গোলে হারিয়ে আপাতত লিগ টেবিলের শীর্ষে কলকাতা জায়ান্টরা।

সাসপেনশনের কারণে এদিন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হাইমে স্যান্টোস কোলাডোকে বাইরে রেখেই দল সাজাতে হয়েছিল লাল-হলুদের স্প্যানিশ বসকে। কোলাডোর পরিবর্তে রোনাল্ডো অলিভিয়েরাকে এসপাদা মার্টিনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে এদিন একাদশ সাজান তিনি। তবু প্রথমার্ধে এসপাদা মার্টিনের গোলে এদিন এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। যাওয়ার কারণও ছিল যথেষ্ট। কোলাডো না থাকায় এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ ছিলেন জুয়ান মেরা। তবু দল হিসেবে প্রথমার্ধ জুড়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে লাল-হলুদ। রাইটব্যাক সামাদ আলি মল্লিকের দূরপাল্লার শট অন-টার্গেট থাকলে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচের আট মিনিটেই। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার।

সেই অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথম দু’ম্যাচে গোল মিসের কারণে সমালোচনার বন্যায় ভেসে যাওয়া দে লা এসপাদা মার্টিন ১৭ মিনিটে এগিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলকে। সামাদের ডানপ্রান্তিক ক্রস থেকে স্পটজাম্পে চলতি আই লিগের তৃতীয় গোলটি সম্পূর্ন করে ফেলেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ‘গো-ব্যাক’ ধ্বনি তোলা সমর্থকেরাই কল্যানীতে এদিন জয়ধ্বনি দিয়ে গেলেন এসপাদার নামে। এগিয়ে যাওয়া দলটাই হঠাতই ছন্দ হারাতে শুরু করে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ম্যাচে ধীরে ধীরে ফেরার চেষ্টা করে ট্রাউ। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলা একাদশের সাত ফুটবলারকে পরিবর্ত করে এদিন দলের খোলনলচে বদলে ফেলেন ট্রাউ কোচ তথা ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনী ডগলাস।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ম্যাচে সমতা ফেরায় আই লিগে অভিষেক হওয়া দলটি। বক্সের সামান্য বাইরে লুয়াং’য়ের বামপ্রান্তিক ফ্রি-কিক থেকে গোলে শট নেন ফাল্গুনী সিং। সেই শট লাল-হলুদ রক্ষণে প্রতিহত হয়ে ফিরলে দীপক দেবরানীর নেওয়া ফিরতি শট জড়িয়ে যায় লাল-হলুদের জালে। প্রথমার্ধের শেষে গোল পেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জীবিত ফুটবল শুরু করে ট্রাউ। উলটোদিকে ততই যন্ত্রণাদায়ক ফুটবল উপহার দেওয়া শুরু করে ইস্টবেঙ্গলের।

একসময় পয়েন্ট নষ্টের ভ্রুকুটি গ্রাস করে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। ট্রাউয়ের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয় কলকাতা জায়ান্টরা। দু-একটি বিক্ষিপ্ত সুযোগে এসপাদা বিপক্ষ রক্ষণ কাঁপানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না গোলের জন্য। ঠিক তখনই রোনাল্ডো ও পিন্টুকে তুলে আলেজান্দ্রো মাঠে নামান অভিজিৎ ও বিদ্যাসাগরকে। পাশাপাশি ডিফেন্স থেকে তুলে মার্তি ক্রেসপিকে আক্রমণভাগে সক্রিয় করেন আলেজান্দ্রো। ফল মেলে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েকমুহূর্ত আগে। ডানদিক থেকে কাশিম আইদারার ক্রস বক্সে হেডে ক্রেসপির উদ্দেশ্যে নামিয়ে দেন এসপাদা। সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে ভুল করেননি ক্রেসপি।

বাকি সময়টা স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গোলেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় লাল-হলুদের। তবে ২২ তারিখ ডার্বির আগে কঠিন জয় সামান্য হলেও চিন্তায় রাখবে ম্যানেজমেন্টকে। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগ টেবিলের শীর্ষে মেনেদেজের ছেলেরা। দু’ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে চার্চিল ব্রাদার্স।