স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া : নীচের একতলার অবস্থা কহতব্য নয়৷ দেওয়াল জুড়ে লম্বা ফাটল, ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে বর্ষার জল। সামান্য বৃষ্টিতেই জল থই থই অবস্থা। যখন তখন ঢুকে পড়ছে বিষধর সব সাপ। এমনই এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ নিতে আসে প্রায় জনা সত্তর শিশু শিক্ষার্থী। ঘটনাটি খোদ বাঁকুড়া শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কমরার মাঠ শ্রীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা থেকে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা সকলের অভিযোগ, স্কুল বাড়ি সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বার বার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। এক প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হয়। স্কুল বাড়ির নিচের তলার পুরো অংশটির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল হওয়ায় দোতলার একটি হল ঘরে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণীর সব ছাত্র ছাত্রীকে গাদাগাদি করে এক সাথে বসতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ধনঞ্জয় প্রামানিক বলেন, বর্ষার সময় এই এলাকা এক হাঁটু জলে ডুবে থাকে। ঐ স্কুলের বর্তমান যা অবস্থা যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর বর্ষাকালে ওখানে সাপ ঢুকে পড়া নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন : চিদাম্বরম দাউদ ইব্রাহিম নন, বিজেপিকে তোপ অধীর চৌধুরীর

শ্রীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা মৌসুমী চৌধুরী বলেন, নিচের ঘর গুলির যা করুণ অবস্থা একদমই ব্যবহার করা যায়না। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই নর্দমার জল ক্লাস ঘরে ঢুকে পড়ে। ফলে পাঁচটি শ্রেণীর সব ছাত্র-ছাত্রীকে একসাথে বসাতে হয়। এক প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র ছাত্রী থেকে তাদের সবাইকে এখানে থাকতে হয়। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে পৌরপ্রধান সবাইকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে ঐ স্কুলে দু’জন শিক্ষকের পক্ষে সব ছাত্র ছাত্রীকে ঠিকমতো পাঠদান সম্ভব হচ্ছেনা জানিয়ে তিনি এক জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

প্রধান শিক্ষক অমরনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুল বাড়ির নিচের তলার ভগ্নদশা ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি বলেন, নিচের তলার পুরো অংশে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্প জনিত কারণ নাকি নির্মানে ত্রুটি সেবিষয়ে তার জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার এসে ছবি তুলে নিয়ে যান৷ সর্বশিক্ষা মিশনে তা জমাও দেন৷

তিনি আরও জানান, ছাত্র ছাত্রীদের স্বার্থে বিষয়টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান প্রত্যেকের কাছে স্কুল বাড়ি সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে৷ একই সঙ্গে বৃষ্টি হলেই এলাকার সব জলের সাথে সাপও ক্লাস ঘরে ঢুকে পড়ে, ফলে তিনি ছাত্র ছাত্রীদের এখানে বসাতে পারেন না বলে দাবী করেন।

আরও পড়ুন : আমেরিকা-চিনের থেকেও এগিয়ে ভারত, পরিসংখ্যান দিলেন অর্থমন্ত্রী

এবিষয়ে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলায় এখনও পর্যন্ত চালু থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সেরকমভাবে বেহাল অবস্থা নেই। যে সমস্ত স্কুলের সামান্যতমও সংস্কার প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই তালিকা কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় চলতি আর্থিক বছরের মধ্যে ঐ কাজগুলি করা সম্ভব হবে।

শ্রীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, জলা জায়গায় ঐ স্কুলের অবস্থান হওয়ায় এই সমস্যা হচ্ছে। এবিষয়ে শিক্ষা দফতরের কিছু করার নেই, যা করার পৌরসভাকেই করতে হবে। অপ্রতুল শিক্ষক সম্পর্কে রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলায় শিক্ষকের সমস্যা নেই। সেরকম পরিস্থিতি হলে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরাই তার ব্যবস্থা করে দেন বলে তিনি জানান।