লন্ডন: সালটা ২০০৫। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে ভিল্লারিয়ালের বিরুদ্ধে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচের আগে লন্ডনের হাসপাতালে আশঙ্কাজনক জোস ডিনিস আভেইরো। মৃত্যুশয্যায় বাবার পাশে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোনাল্ডোকে ছুটি দিয়েছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।

না, সবে সাফল্যের সিঁড়িতে পা দেওয়া পর্তুগিজ সুপারস্টারের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হয়ে ওঠা দেখে যেতে পারেননি আভেইরো। তবে মৃত্যুর আগে পিয়ের্স মর্গ্যানকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়ে গিয়েছিলেন, ছেলের জন্য গর্বিত তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে দেখানো হয়েছিল তাঁর বাবার সেই সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও ক্লিপিং। যা দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি সিআর সেভেন।

সাক্ষাৎকারের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্রিশ্চিয়ানো। পর্তুগিজ সুপারস্টার জানান, ‘আগে কখনও এই ভিডিও তিনি দেখেননি। এটা অবিশ্বাস্য।’ অশ্রুসজল ক্রিশ্চিয়ানোকে তখন জানতে চাওয়া হয়, ‘কোন ঘটনা তোমায় দুঃখ দিয়েছে?’ প্রত্যুত্তরে গ্রহের অন্যতম সেরা ফুটবলারটি বলেন, ‘আমার এক নম্বর হওয়া কিংবা পুরস্কার হাতে আমায় কখনও মঞ্চে দেখে যেতে পারেননি আমার বাবা।’ এরপর মর্গ্যান যোগ করেন, ‘তুমি আজ এত বড় মাপের একজন ফুটবলার অথচ তোমার বাবাই তা দেখে যেতে পারলেন না।’

হতাশ রোনাল্ডো চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘না, আমার পরিবার দেখেছে, আমার মা দেখেছে, আমার ভাই দেখেছে, আমার বড় ছেলেও আমার সাফল্যের ভাগীদার হয়েছে। কিন্তু আমার বাবা কিছুই দেখে যেতে পারেননি। অনেক অল্প বয়সেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ স্পোর্টিং লিসবন থেকে ম্যান ইউ’তে যোগদান। এরপর ফার্গুসনের কোচিংয়েই ধীরে-ধীরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারে পরিণত হয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো। ২০০৭-২০০৯ টানা তিন মরশুম রেড ডেভিলসদের হয়ে প্রিমিয়র লিগ খেতাব জয়ের পাশাপাশি ২০০৮ ম্যান ইউ’কে ইউরোপ সেরাও করেছিলেন সিআর সেভেন। বর্তমানে ইতালির ক্লাব জুভেন্তাসের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা তিনি।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারে জিতেছেন ২৯টি মেজর ট্রফি। যারমধ্যে ক্লাবের জার্সি গায়ে ৬টি লিগ খেতাব, ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব সহ দেশের জার্সি গায়ে জিতেছেন ইউরো কাপ ও নেশনস লিগের মত খেতাব।