স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: এবার আক্রান্ত সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অমিয় পাত্র৷ শনিবার সকালে বাঁকুড়ার তালডাংরায় তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ৷ অমিয়বাবুর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা করেছে৷

প্রসঙ্গত, অমিয় পাত্র বাঁকুড়ায় দাপুটে সিপিএম নেতা হিসেবেই পরিচিত৷ দীর্ঘদিন বিধায়ক থেকেছেন৷ দলের জেলা সম্পাদকের পদ সামলেছেন৷ রয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীতেও৷ সম্প্রতি পার্টি কংগ্রেসে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ ফলে এমন একজন নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতে মমতার সরকারের ভরসা অ-বিজেপি রাজ্যের বাহিনী

আরও পড়ুন: মন্দিরের ভিতর সাত বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা পূজারির

অমিয় পাত্রর দাবি, শনিবার সকাল ১০ টা ৪৫ নাগাদ জনা ৫০-৬০ জন সশস্ত্র তৃণমূল কর্মী তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ঢিল ছুঁড়তে শুরু করে। কোনও কিছু কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। নিচের তলার সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুরও করা হয়৷ পাশাপাশি বাড়ির সমস্ত দরজা জানালার কাঁচ, ইনভার্টার, এসি, জিমের সরঞ্জাম ও ইলেকট্রিক মিটার বক্সেও ভাঙ্গচুর চালানো হয় বলেও অমিয় পাত্রের অভিযোগ। ঘটনার সময় অমিয় পাত্র নিজে ও তাঁর স্ত্রী বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও দলের জেলা কমিটির সসস্য তারাশঙ্কর রায় সরাসরি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সিপিএম সব সময় ‘তৃণমূল-তৃণমূল করে স্বপ্ন দেখে। ‘‘ওই ঘটনা সিপিএমের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই ঘটেছে।’’

এক সময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তালডাংরা বাজারে এই ধরনের ঘটনায় যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত সিপিএম সমর্থকদের সঙ্গে আপাত নিরীহ সাধারণ মানুষও। পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সিপিএম বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য অজিত পতি বলেন, ‘‘নৃশংস বর্বরোচিত এই আক্রমণ। আমাদের দলের সর্বভারতীয় নেতার বাড়ি যদি এভাবে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে, তাহলে সাধারণ কর্মী সমর্থকরা কতটা নিরাপদে আছেন, তা বোঝাই যাচ্ছে৷’’