স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময় রাহুল গান্ধী-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে একই মালায় দেখেছিল রাজ্যবাসী৷ সোমবার বিকেলে আরও এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল পশ্চিমবঙ্গ৷ এদিন বিকেলে বিধানভবনে গেলেন আলিমুদ্দিনের নেতারা৷ সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্যদের সঙ্গে বসে চা খেলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা৷ যা রাজ্য-রাজনীতিতে প্রথম৷

দুই দলের রাজ্য সদর দফতরের দূরত্ব মেরে কেটে ১০ মিনিট। মতাদর্শের দিক থেকে দুই মেরুর বাসিন্দা তারা। এক সময় একে ওপরের বিরুদ্ধে লড়াই করত৷ যদিও
২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তাদের মধ্যে কিছুদিনের বন্ধুত্ব হয়েছিল৷ কিন্তু ভোট মিটতেই সেই বন্ধুত্ব ভেঙে যায়৷ লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে আবার বন্ধুত্বের হুঁশ ফেরে কংগ্রেস-সিপিএম দুইপক্ষেরই৷

বিজেপিকে রুখতে ভোটের পর থেকেই একসঙ্গে কর্মসূচী নিচ্ছে দুই দল৷ কিন্তু সোমবার যা ঘটল তা অনেককেই চমকে দিয়েছে৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে বাম – কংগ্রেসর জোটের রূপরেখা ঠিক করতে একের পর এক বৈঠক হলেও কারও পার্টি অফিসে যাননি কেউ। কখনো বৈঠক হয়েছে প্রদীপ ভট্টাচার্যের বাড়িতে। কখনো আবার গণশক্তির পাঠাগারে বৈঠকে বসেছেন তাঁরা। তবে লোকসভা নির্বাচনের পর এরাজ্যে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে নতুন করে নকশা তৈরি করছে তারা।

সোমবার বিধানভবনে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের সঙ্গে চা পান করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। এরপর তিনজন একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সিপিআইএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক তথা বর্তমান ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এদিন বলেন, ‘‘সোমেন মিত্র অফার করলেন, চা খেয়ে যাবেন না? আমরা বলেছি, হ্যাঁ, খাওয়াই যায়! বাঙালি চা খাওয়ার সময় টুকটাক কথা বলে। আমরাও কথা বলেছি’’।

কিন্তু শুধুই কি কথা, নাকি জোটের কথা? এই প্রশ্নের জবাবে বিমান বসু বলেন, ‘‘আগামী দিনের কথা আগামী দিন বলবে। যদি প্রদেশ কংগ্রেস মনে করে, তাহলে এ ধরনের কর্মসূচি হতে পারে। দেশ ও দেশের মানুষের স্বস্তিতে বাস করা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা এখন বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মনে যে উন্মাদনা তৈরির জন্য রাজনৈতিক প্রয়াস, তাতে সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের এক হওয়া উচিত’’। মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে বিমান বসু বলেন, “গান্ধীজিকে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করাননি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কারণ, রবি ঠাকুর ১৯৪১ সালেই মারা গিয়েছিলেন। আর গান্ধীজী অনশন কর্মসূচি করেছিলেন ১৯৪৬-৪৭ সালে।” বামফ্রন্টের নেতাদের এহেন বিধান ভবনে আগমন প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন , “ বিমানবাবুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ওঁরা এসেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।”