স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ত্রিপুরায় দুটি লোকসভা আসনে নির্বাচন পক্রিয়ায় বিভিন্ন গড়মিল এবং রাজ্যের শাসকদল বিজেপির বিবিধ ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরাকে চিঠি লিখছে সিপিএম৷ ২০১৮ সালেই ত্রিপুরায় সরকার বদল হয়েছে৷ ২৫ বছরের বাম শাসনকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি৷

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর প্রথম লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম তাদের দুটি জেতা আসন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর৷ অন্যদিকে, প্রথমবার ত্রিপুরার দুটি লোকসভা আসনে জয়ের হাতছানি দেখছে বিজেপি৷ রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরই সিপিএমের অনেকখানি সংগঠনকে গ্রাস করেছে বিজেপি৷ সেক্ষেত্রে লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনকে সিপিএমের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হয়েছে বলে কমিশনের কাছে নালিশ জানিয়েছে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং পলিটব্যুরো সদস্য নীলোৎপল বসু৷ এক কেন্দ্রায় কমিটির নেতার কথায়, ‘‘সিপিএমের সাফ কথা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যা করছে ত্রিপুরায় বিজেপি একই কাজ করছে৷ বোঝা যাচ্ছে না কে কাকে শেখাচ্ছে৷’’

কমিশনারকে সিপিএমের অভিযোগ, বুথে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া তো দূরের কথা ত্রিপুরাতে প্রার্থীর নিরাপত্তাই নেই৷ ত্রিপুরা পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী শংকরপ্রসাদ দত্তর এজেন্টদের বেআইনি ভাবে আটকানো হয়েছে৷ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিংকে গেরুয়া বাহিনী নষ্ট করে দিয়েছে৷ ১১ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী ছাড়াই অনেক জায়গায় নির্বাচন হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে ৪৬৪টি বুথে পুননির্বাচন দাবি করেছে সিপিএম৷ ত্রিপুরা পূর্বে নির্বাচন হওয়ার আগে, প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী চাওয়া হয়েছে৷ ভোটের গন্ডোগোলে এফআইআরে নাম রয়েছে এই রকম অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে৷ প্রতিটি বুথে ৭জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানকে মোতায়েন করতে হবে৷ কোনও অবৈধ ভোটারকে লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া চলবে না৷ বহিরাগতদের আটকাতকে হবে৷

পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরাতেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে সিপিএম৷ প্রসঙ্গত, রাজ্যে ৪২টি আসনের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে সিপিএম৷ দুই জেতা আসনে (রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ) কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হয়েছে লালপার্টিকে৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ১৯৭৭ সালের পর সব থেকে কঠিন নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছে সিপিএম৷ ক্ষমতা হারানোর পর সিপিএমের সংগঠনের দখল নেয় তৃণমূল৷

ফাইল ছবি

রাজ্যে বিজেপির উত্থানের পর সিপিএম তথা বামভোটের তলানিও যখন গেরুয়া মুখী হওয়ার দিকে তখন কিছুটা হলেও ঘুরে দাড়িয়েছে লালপার্টি৷ ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বামফ্রন্টের জনসভা দেখিয়েছে রাজ্যে বাম শক্তি একেবারেই মৃত নয়৷ চরম হিংসা এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্ট ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যা বামফ্রন্টকে অক্সিজেন যোগাচ্ছে৷