নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: কেরলে নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে চলেছে সিপিএম৷ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক টিকা রাম মিনা কেরলে নির্বাচন চলাকালীন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম৷ ইতিমধ্যে কেরলে বিরোধী ইউডিএফ জোট ক্ষমতায় থাকা সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জোটের বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোট দেওয়ার অভিযোগ করেছে৷ অন্যদিকে একই অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে করেছে সিপিএমও৷ দক্ষিণ্যের সংবাদপত্রে ইতিমধ্যেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছে৷

দোষারোপ এবং পালটা দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে৷ কেরলে সিপিএমের বিরুদ্ধে ভুঁয়ো ভোট ও গণতন্ত্রকে হত্যা করার অভিযোগ আগেই করেছিল কংগ্রেস৷ কংগ্রেসকে একই অভিযোগ ফিরিয়ে দিয়েছে সিপিএমও৷ সিপিএমের বক্তব্য, কুন্নুর এবং কাসারগোদ জেলায় কংগ্রেস কর্মীরা ঢেলে জাল ভোট দিয়েছে৷ অন্যদিকে, প্রদেশ সভাপতি মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্রণের সাফ বক্তব্য, ‘‘কাসারগোড লোকসভা কেন্দ্রে পায়ান্নুর বিধানসভার পিলাথারা ওএউপি বিদ্যালয়ের ১৯ নম্বর বুথে ভুয়ো ভোট হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন কী তা অস্বীকার করতে পারেন? ওর জবাব চাই৷’’

পিনারাই বিজয়ন

সিপিএম নিজের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছে, ইউডিএফ কর্মীরা ২৮টি জাল ভোট দিয়েছে৷ পামবুরুথি মাপিলা এএউপি বিদ্যালয়ের ১৬৬ নম্বর বুথে ইউডিএফ কর্মীরা গাল্ফে কাজ করা কর্মীদের ভোট দিয়ে দিয়েছে৷ ঘটনা ঘটেছে কুন্নুর লোকসভা কেন্দ্রের তালিপারাম্বা বিধানসভা কেন্দ্রের কুন্নুর লোকসভা৷ সিপিএমের অভিযোগ, আক্কিপারাম্বা ইউপি স্কুলের বুধ নম্বর ৭৭ -এ এনআরআই বোটারজের ভোট জাল করেছে ইউডিএফ কর্মীরা৷ সুতরাং প্রদেশ সভাপতি মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্রণের নিজের দলকেই দেখা উচিত৷

কেরলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণণ নিজেই মনে করছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগগুলি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক টিকা রাম মিনা পক্ষপাতদুষ্ট৷ ইউডিএফ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক টিকা রাম মিনা হালকা ভাবে নিচ্ছেন৷ অন্যদিকে এলডিএফের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছেন৷ একই অভিযোগ কিন্তু দুইরকম ব্যবস্তা কেন তা প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম৷

কেরলে সিপিএম-কংগ্রেসের লড়াইয়ের ইতিহাস বহু পুরানো৷ পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা না করতে পারলেও সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে৷ কিন্তু কেরলে সবসময় বিপরীত চিত্র ছিল৷ ২০১৮ সালের অক্টোবরের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর সিপিএম জানিয়েছে, কেরলে আরএসএস এবং বিজেপির সঙ্গে এক লাইনে রাজনীতি করছে কংগ্রেস৷ সিপিএমের বক্তব্য, শবরীমালা মন্দির প্রসঙ্গে বিজেপি এবং কংগ্রেস একই আচরণ করেছে৷ লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে, কং-সিপিএম লড়াই শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও রাহুল গান্ধী কিছুটা সৌজন্যতা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন কেরলে৷ সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রচারে কিছু বলেননি৷ কিন্তু নির্বাচন শেষ হতেই কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব সিপিএমের বিরুদ্ধে ‘দশমুখে’ প্রচার শুরু করেছে৷