দেবময় ঘোষ, কলকাতা: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ শবরীমালা মন্দির প্রসঙ্গে কেরল সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টকে যা বলেছেন – ভোটের প্রচারে সেই বক্তব্যই তুলে আনতে চায় সিপিএম৷ ইতিমধ্যেই পার্টির পলিটব্যুরো অমিতের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে৷

পলিটব্যুরোর বার্তায় বলা হয়েছে – ‘‘ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কেরলে তাঁর বক্তব্যে শরবীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন৷ তাঁর এই চিন্তাভাবনার দ্বারা তিনি বিজেপি কর্মীদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অবজ্ঞা এবং অগ্রাহ্য করার পথে চালিত করছেন৷ শাহের বক্তব্যের থেকেই বোঝা যাচ্ছে, শবরীমালায় হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পিছনে কারা রয়েছে৷’’

সিপিএমের মুখপত্র – People’s Democracy এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রতিবেদন আকারে যা প্রকাশিত হয়েছে, তা হল , অমিত শাহ ভারতের সংবিধানকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন৷ যদিও তিনি কুন্নুরের জনসভায় শবরীমালার বিষয়ে তাঁর পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করছিলেন, কিন্তু তার কথায় যে বিদ্বেষ ঝরে পড়ছিল, তা হুমকি এবং হিংসাকে উৎসাহিত করে৷ প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি কেরল সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ করেছেন৷

কিন্তু কেরলে এমনকী বলেছেন অমিত শাহ, যার ফলে সিপিএম প্রতিবাদে মুখর হয়েছে? অমিত শাহকে উদ্ধৃত করে People’s Democracy লিখেছে, ‘‘আমি (রাজ্য) সরকার এবং কোর্টে যাঁরা অর্ডার দিয়েছেন, তাদের বলছি, আপনাদের এমন নির্দেশ দেওয়া উচিত যা বাস্তবায়িত করা যায়৷ এমন কোনও নির্দেশ নয় যা, মানুষের বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়৷’’

ঠিক একমাস বাদেই তারাপীঠ থেকে রথে চড়বেন অমিত শাহ৷

মোদী সরকারের জমানায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে বলে দাবি করেছে সিপিএম৷ নরেন্দ্র মোদী-শাহের জমানায় গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করা হয়েছে, এই দাবিও করা হয়েছে৷ লোকসভা ভোটের আগে এইসব কিছুই প্রচারের অঙ্গ করতে চায় সিপিএম৷ এক্ষেত্রে অমিতের বক্তব্যকেই হাতিয়ার করতে চায় সিপিএম৷

সিপিএমের মুখপত্রে লেখা হয়েছে, অমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘‘দেশের সংবিধানকে মানা উচিত নয়৷ শুধু মাত্র মানুষের বিশ্বাসকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷ এখান থেকেই পরিষ্কার, আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির লক্ষে দেশের সংবিধানকে গুরুত্বহীন করতে চায়৷ তুলে ধরতে চায় গোঁড়া হিন্দুত্বের আদর্শ৷’’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার বক্তব্য, ‘‘লোকসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য একশোরও বেশি ইস্যু রয়েছে৷ কিন্তু দেশের মানুষ গণতন্ত্র হত্যার নানা ঘটনায় ভীত, সন্ত্রস্ত এবং উদ্বিগ্ন৷ শবরীমালা নিয়ে কেরলে অমিত শাহের বক্তব্য দেশের সাধারণ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে৷’’