স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নদিয়া জেলার নোডাল অফিসার অর্ণব রায় নিখোঁজ ছিলেন প্রায় সাত দিন৷ ওই অফিসারকে খুঁজে বার করতে প্রশাসনকে চাপ দিয়েছিল সিপিএম বলে দাবি তাঁদের৷ বৃহস্পতিবার ওই অফিসার ফিরে আসার পরও ইস্যুটি ছাড়তে রাজি নয় সিপিএম৷

বিধানসভায় বাম দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়ে নদিয়ার জেলা শাসকের দফতরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন৷ জেলা শাসকের সঙ্গে দেখাও করেন সুজনবাবু৷ লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি অফিসারের অন্তর্ধান এবং ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে সিপিএম৷

প্রসঙ্গত কয়েকমাস আগে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীন, এক প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ও নিখোঁজ হয়েছিলেন৷ পরে তার দেহ উদ্ধার হয়েছে৷ রাজকুমারের পরিবারের দাবি ছিল, তাঁকে খুন করা হয়েছে৷ ওই প্রিসাইডিং অফিসার উত্তরবঙ্গের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন৷

ওই ঘটনার পরেই রাজ্যের সরকারি কর্মীরা আন্দোলন জোরদার করেন৷ সরকারি কর্মীরা আদালতেও গিয়েছেন৷ উপযুক্ত নিরাপত্তা না দিলে সরকারি কর্মীরা ভোটকর্মী হতে যাবেন না – এই হুমকিও দেওয়া হয়েছে৷ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি দফা শেষ হয়ে দিয়েছে৷ তবে তিনটি দফাতেই ভোটকারর্মীদের উপর কম-বেশি আক্রমণ হয়েছে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে সিপিএম সরকারি কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে৷

সিপিএম সূত্রের দাবি, ভোটকর্মীরা ভীত৷ তাঁরা আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারছেন না৷ সেখানে একজন ডব্লুউবিসিএস – অফিসার, সিনিয়ার, তিনি নিখোঁজ ১৮ এপ্রিল থেকে৷ পরে ফিরে এলেন৷ কিন্তু এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও রহস্য রয়েছে৷ রাজ্যের কোনও দায় নেই কেন? তাঁর স্ত্রীও ডব্লুউবিসিএস-অফিসার৷ এটা ক্রিমিনাল অ্যাবডাকশন৷ ওই অফিসার কোথায় ছিলেন? পুলিশ, নির্বাচন কমিশনকে খুলে সব জবাব দিতে হবে৷ সরকারি উচ্চপদের অফিসারের এই হাল হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’’

সুজন চক্রবর্তী বুধবার বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ মন্ত্রী৷ আপনাকে উত্তর দিতে হবে, আপনার পুলিশ সাত দিনে কী করতে পারল? আপনি কথায় কথায় বলেন ওদের সিবিআই আছে আমার সিআইডি আছে৷ আপনার সিআইডি কী করছে?’’ তবে সুজন যখন এই মন্তব্য করেছেন তখনও অর্ণবের খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সিআইডি৷ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়৷ আপাতত হাওড়ায় শ্বশুর বাড়িতে রয়েছেন ওই ডব্লুউবিসিএস অফিসার৷ ভোটের কাজে নোডাল অফিসার ছিলেন তিনি৷ নদিয়ার ভিভিপ্যাটের দায়িত্বে ছিলেন অফিসার অর্ণব রায়৷ গত ১৮ই মার্চে কাজে যোগ দেওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি৷

প্রথমে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়৷ পরে রাজ্য সরকারের ওই অফিসারের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে সিআইডি৷ সিপিএম বিষয়টি ছেড়ে দিতে রাজি নয়৷ সিপিএম সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষকে বোঝানো হবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন৷ কিন্তু তাঁর রাজ্যের এক উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার নিখোঁজ৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা জবাবদিহি চাওয়া হবে৷ তিনি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে ওই অফিসারকে খোঁজ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন৷ জেলা থেকে ওই অফিসার কী কের নিখোঁজ হতে পারে৷ রাজ্যে সাধারণ মানুষের কেনও নিরাপত্তা কেন সুরক্ষিত নয়৷

সিপিএম শুধু একা নয়, বিজেপিও এই ইস্যুতে ময়দানে নেমেছে৷ বিজেপি সমর্থিত কর্মী ইউনিয়নগুলি আন্দোলন শুরু করেছে৷ লোকসভা নির্বাচনের ঝুঁকির মুখে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয় সরকারি কর্মীদের৷ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রতিটি বুথেই আধাসামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়েছে সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন৷

এই ঘটনা ধরেই সরকরি এবং আধাসরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি আবার সামনে আনতে চলেছে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ৷ সংগ্রামী মঞ্চের তরফে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে দাবি জানানো হয়েছে, ভোটকর্মীরা যদি আহত বা নিহত হন তবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশও রয়েছে৷

সরকারি কর্মচারিদের ৯টি সংগঠনের মিলিত যৌথ মঞ্চ ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে কয়েক সপ্তাহ আগে অবস্থান বিক্ষোভও করেছে৷ তবে নির্বাচনের মরশুমে সরকারি এবং আধাসরকারি, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা দীর্ঘদিনের দাবিগুলিকেই আবার সামনে এনেছেন৷ যৌথমঞ্চের দাবি, অবিলম্বে প্রাপ্যদিন থেকে বকেয়াসহ কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘভাতা দিতে হবে৷ অবিলম্বে বেতন কমিশনের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করে ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারির তারিখ থেকে বেতন কাঠামো চালু করতে হবে৷ সরকারি কর্মীদের বদলির হুমকি এবং অযথা হয়রানি করার জন্য বদলি বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে৷

নির্বাচনের মুখে সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির আরও দাবি, সরকার বিরোধী সংগঠন নেতাদের কলকাতার বাইরে ইচ্ছাকৃতভাবে বদলি করা হয়েছে৷ সুষ্ঠু বদলিনীতি চালু চালু করতে হবে৷ শূন্যপদে নিয়োদ চালু করতে হবে৷ বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবিগুলি নিয়েও সরব হয়েছে যৌথ মঞ্চ৷