স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সুষমা স্বরাজ নেই। তবে শুধু বিজেপিতেই নয়, তার অভাব অনুভূত হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত মতাদর্শের সিপিএমও। সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র যেমন টুইট করেছেন, “আমি সুষমা স্বরাজের তিন বছরের বড়। কিন্তু, ওর ব্যবহার দেখে মিনে হতো উনি যেন আমার বড় বোন। উনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। তখন আমি রাজ্যের মন্ত্রী (স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন সূর্যকান্ত)।

আরএসএসের সুপারিশ ছাড়াই এই মাতৃসমা মহিলা ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন, এটা জেনে ভালো লাগে।” সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি টুইটারে নিজের শোক বার্তাও লিখেছেন, সুষমা জি নেই জেনে খারাপ লাগছে। স্বরাজ কৌশল (সুষমা স্বরাজের স্বামী) এবং বাসুরি (কন্যা) কে নিজের দুঃখপ্রকাশ করছি। সীতারামের টুইট কে রি-টুইট করেছে সিপিএম। রাজনৈতিক সীমান্ত ছাড়িয়ে সুষমার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল সিপিএম-এর।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসাবে তিনি রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গেও অসাধারণ সম্পর্ক ছিল সুষমার। শুধু জ্যোতি বসু-ই নন, ত্রিপুরার পূর্ব মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলতেন সুষমা। সুষমার সঙ্গে সিপিএমের উত্তম সম্পর্কের অন্যতম কারণ হলো, তিনি আরএসএসের প্রভাবে বেড়ে ওঠেননি। বিজেপি পার্টির সংগঠনই তাঁকে বাড়িয়ে তুলেছে। আজ সুষমা নেই। কিন্তু স্মরণ করেছে রাজনৈতিক ভাবে ঘোর বিরোধী সিপিএমও।

সুষমার সঙ্গে মধুর সম্পর্কের কথা নিজেই বলেছেন মমতা। বিজেপির লালকৃষ্ণ আদবানি, অটল বিহারি বাজপেয়ী এবং সুষমা স্বরাজের মতো নেতৃত্বের প্রশংসা মমতা নিজে অনেকবার করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মমতার সম্পর্কের সেতুও ছিলেন সুষমা।

২০১৪ সাল। লোকসভা নির্বাচনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র। কিন্তু, মমতার সঙ্গে রাজনৈতিক তরজা চলছে উচ্চগ্রামে। সেই সময়, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বার্তালাপ প্রায় বন্ধ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ভারত সফরে মোদী-মমতার কথা হয়। মনে করা হয়, মাঝে ছিলেন সুষমা। সিপিএম থেকে তৃনমূল সকলের ভালোবাসার জায়গায় থেকেছেন সুষমা