স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ঘুরে দাঁড়ানো’র চ্যালেঞ্জে তৃণমূলকে সাফল্য এনে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রশান্ত কিশোর। শোনা যাচ্ছে, তাঁর পরামর্শ ছাড়া এক পাও ফেলছে না তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এমন অবস্থাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। দিদিকে বলো ক্যাম্পেন থেকে শুরু করে যে কোনও ইস্যুতে তৃণমূলের অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া,সব আইডিয়াই বেরোচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের মাথা থেকে। এমনকি রাজ্য সরকারের কাজেও পিকে হস্তক্ষেপ করছে কদিন আগেই অভিযোগ করেছিল রাজ্য বিজেপি।

তারা বলেছিল, সরকারি অফিসে বসে আইএএস-আইপিএসদের নির্দেশ দিচ্ছে তাঁর টিম আইপ্যাকের কর্মীরা। উত্তর দমদম কেন্দ্রের বিধায়ক বলেন, “একটা দলের নিজস্ব ব্রেনের এত অভাব যে তাঁদের প্রশান্ত কিশোরের মত চিপ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মানুষ বুঝতে পারছে দলটার নিজস্ব মস্তিষ্কের কেমন অবস্থা! আমরা লোকসভায় ৭ শতাংশ ভোট, একটাও আসন না পেয়েও প্রশান্ত কিশোরের মত ব্রেন চালানোর চিপ ভাড়া করতে যাইনি। নিজেরাই খারাপ ফলের কারণ অনুসন্ধান করছি। আসলে আমরা মানুষের কাজ করতে চাই, আর কাজ করার ইচ্ছে থাকলে ক্ষমতায় না থেকেও করা যায়।” পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট বা ‘রাজনৈতিক কৌশল রচয়িতা’ প্রশান্ত কিশোর যাঁর সঙ্গে থেকেছেন, তিনিই সাফল্যের স্বাদ পেয়েছেন।

গুজরাত, বিহার, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ এর পর তৃণমূলের সৌজন্যে প্রশান্ত কাজের জাল বিছিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। লোকসভায় দলের বিপর্যয়ের প্রভাব ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে যাতে না পড়ে তার জন্য এই প্রশান্ত কিশোরেরই হাত ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এব্যাপারে তিনি কতটা সাফল্য পান সেটা ভোটের রেজাল্ট বলবে। তবে আগামী নির্বাচনগুলোতে বিরোধীরা যে পিকের উপর তৃণমূলের নির্ভরশীলতাকে নেগেটিভ প্রচারে পরিণত করবে তার ইঙ্গিত এখন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।