স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলে ফের রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠল শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে সিপিএম রানীবাঁধ এরিয়া কমিটির সম্পাদক ও বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন মাহাতোকে মারধরের অভিযোগ ওঠে৷ সিঁদুরপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা৷ আখখুটা মোড়ে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধোর করে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সিপিএম নেতা মধুসূদন মাহাতো বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি আছেন। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

সিপিএম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে রানীবাঁধ এলাকায় প্রচার সেরে সিঁদুরপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি৷ পথে কয়েক জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী মধুসূদন মাহাতোকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আখখুটা মোড় এলাকায় তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। রানীবাঁধ ব্লক এলাকার অন্যতম সংগঠক মধুসূদন মাহাতোকে পার্টি ছাড়তেও চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। পরে জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাদের পক্ষ থেকে ওই সিপিএম নেতার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।

এই খবর তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছাতে অচৈতন্য মধুসূদন মাহাতোকে তার বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সন্ত্রস্ত স্থানীয় সিপিএম কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলেও পুলিশ গুরুতর আহত মধুসূদন মাহাতোকে উদ্ধার করে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন৷

জেলা সিপিএমের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়, পরোপকারী ও পেশায় চিত্রশিল্পী মধুসূদন মাহাতোর উপর আক্রমণের ঘটনায় জঙ্গল মহল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মানুষ। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী অমিয় পাত্র এই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন৷

তিনি বলেন, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে জেলা জুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হবে। একই সঙ্গে শাসক দল মধুসূদন মাহাতোদের মতো জনপ্রিয় নেতাকে ভয় পেয়েছে বলেই এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে তার দাবি। অমিয় পাত্র সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে হলে ওই এলাকায় দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতেও সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যথারীতি এই ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনায় তাদের দলের কেউ যুক্ত নয়। তৃণমূল নেতা জয়ন্ত মিত্র বলেন, সিপিএম অপপ্রচার করছে। আমাদের দলীয় কর্মীরা এখন ভোট প্রচারে ব্যস্ত। এই ঘটনা সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানো লোকেদের হলেও হতে পারে বলে তার দাবি।