তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লাল ঝাণ্ডার দীর্ঘ মিছিলের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার জঙ্গল মহল। সোমবার বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্রের সমর্থনে এই মিছিল হয়৷ সিমলাপালের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খামারডাঙ্গা গ্রাম থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে মিছিল শুরু হয়৷ বাঁশিপুর, সাইড়ি, পুইপাল, নতুনগ্রাম, ঝমকা, মাদারিয়া গ্রাম ঘুরে দীর্ঘ আট কিলোমিটার পথ পরিক্রমা শেষে কেন্দডাঙ্গা গ্রামে মিছিল শেষ হয়।

কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকের মিছিলে পা মেলান সিপিএম নেতা ও সিমলাপাল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি সুবীর পাত্র, দলের নেতা বিপ্লব দাস মহন্ত প্রমুখ। ২০১১ পূর্ববর্তী সময়ে লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল জঙ্গল মহলের এই এলাকা। পরে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে এখানেও। শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে ঘাস ফুল শিবির। পরে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ছবিটা দ্রুত বদলাতে থাকে।

তৃণমূলকে সরিয়ে এখানকার দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পুনরুদ্ধার করে সিপিএম। এবার লোকসভা ভোটেও এই এলাকায় ভালো ফল করবে তাদের দল, আশাবাদী সিপিএম নেতৃত্ব। ইতিপূর্বে দলের জেলা সম্মেলন উপলক্ষে সিমলাপালে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের উপস্থিতিতে বড়ো সভার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি মিছিল সিপিএমের পক্ষ থেকে সংগঠিত করা হয়৷ এই প্রথম সাম্প্রতিককালে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এই ধরণের দীর্ঘ মিছিল। গ্রামের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উজ্জীবিত স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব।

মিছিলে অংশ নিয়ে সিপিএম নেতা সুবীর পাত্র বলেন, ‘‘তৃণমূলের হুমকি উপেক্ষা করে মানুষ আজ মিছিলে পথ হেঁটেছেন। তারা জানেন গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে একমাত্র লাল ঝাণ্ডাই লড়াই করে। সিপিএমের মিছিলে গেলে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে এমন হুমকি শাসক দলের পক্ষ থেকে গ্রামের মানুষকে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি৷

তিনি আরও বলেন, মানুষ জাগছে। এখন আর হুমকি আর ধমক দিয়ে কোন কাজ হবে না৷ এটা বুঝতে পেরেও তৃণমূল শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হবে না বলেই তার দাবি। অন্যদিকে বিজেপিকেও এক হাত নেন তিনি। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে মানুষকে খেপিয়ে তুলে মূল সমস্যাগুলিকেই তারা ভুলিয়ে দিতে চাইছে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গল মহলের সিংহভাগ মানুষ তৃণমূল-বিজেপিকে দূরে ঠেলে ফেলে দিয়ে সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্রকেই হাত খুলে ভোট দেবেন বলেই সুবীর পাত্র আশা প্রকাশ করেন।