স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অন লাইনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল সিপিএম৷ মামলার শুনানী চলার পর বিচারক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন- তিনি এবিষয়ে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবেন না৷ ফলে সিঙ্গল বেঞ্চ ছেড়ে এবার ডিভিশন বেঞ্চে যেতে চলেছে সিপিএম৷ সিপিএমের দাপুটে নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘হোয়াটস অ্যাপে যদি মনোনয়ন জমা দেওয়া যায়, তাহলে ই-নমিনেশন কেন জমা নেওয়া যাবে না?’’

আদালত সূত্রের খবর, শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম৷ তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিডিও, এসডিও কিংবা ডিএম অফিস, যেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা সেই জায়গাগুলি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তৃণমূল৷ ফলে সিংহভাগ আসনে তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি৷ তাই অন লাইনের মাধ্যমে মনোনয়ন দাখিল করার আবেদন জানানো হয়েছিল দলের তরফে৷

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারক সুব্রত তালুকদারের এজলাসে ওঠে মামলাটি৷ সেখানে সিপিএমের তরফে প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশবাবু দাবি করেন, ‘‘২০১৩ সালের পঞ্চায়েত আইনানুযায়ী অন-লাইন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার বৈধতা রয়েছে৷ ফলে এবারে কেন অনলাইনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া যাবে না?’’ পাল্টা হিসেবে শাসকদলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০১৩ সালে রাজ্যে এমন কোনও পঞ্চায়েত আইন তৈরিই হয়নি৷ ফলে অন-লাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷’’

পাল্টা হিসেবে ভাঙড়ের সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরে বিকাশবাবু বলেন, ‘‘ভাঙড়ের ৯জন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যদি মনোনয়ন জমা দিতে পারেন, তাহলে অন-লাইনে নয় কেন?’’ আদালত সূত্রের খবর: সেসময় ইলেকশন কমিশনের তরফে এক প্রতিনিধি বিচারককে জানান, ‘‘হোয়াটসঅ্যাপের পর ভাঙড়ের ওই ৯জন প্রার্থী পরে সশরীরের এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাই তাঁদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে৷’’ এরপরই বিচারক তালুকদার বিকাশবাবুর উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন, তিনি এবিষয়ে আর কোনও হস্তক্ষেপ করবেন না৷

স্বভাবতই ক্ষুব্ধ সিপিএম নেতা-আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শাসকের সন্ত্রাসের জেরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সিংহভাগ আসনে প্রার্থী দেওয়া যায়নি৷ হোয়াটসঅ্যাপে মনোনয়ন জমা নিতে পারলে অন-লাইনে নয় কেন? অথচ বিচারক বলছেন, তিনি এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না৷ আমরা ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি৷’’ স্বভাবতই, পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে জট ক্রমশ: ‘ঘন’ হওয়ায় ভোট আপাতত অথৈ জলে- এমনটাই অভিমত রাজ্যের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের৷