স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আপনার পাড়ার পুজোতে সিপিএমের নেতাদের দেখে অবাক হয়ে যাবেন না৷ এবার থেকে এটাই অভ্যেসে পরিণত করে ফেলুন৷

দুর্গা পুজো যে শুধুই ‘ধর্মকর্ম’ নয়, চিরন্তন এক সামাজিকতা, সে বিষয়েই কয়েক বছর আগেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল পার্টি৷ নেতাদেরও প্যান্ডেল মুখে আনাগোনা বেড়েছিল আগের থেকে অনেক বেশি৷ ২০১৮ সালের দুর্গাপুজোয় সিপিএম নেতারা শুধু মাত্র প্যান্ডেলের বাইরে বুক-স্টলেই বসে থাকবেন না৷ প্রতিমার সামনে লাল ফিতে কাটবেন কাঁচি দিয়ে৷ এটাই এখন ‘অফিসিয়াল৷’

উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএমের বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য, বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলের নেতা তথা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, কামারাহাটির বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়কে নিজেদের এলাকায় পুজোর উদ্বোধনে থাকছেন৷ অনুষ্ঠানেও যাচ্ছেন৷ আগের মতো আর তেমন দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই৷ আবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু শারদোৎসব উপলক্ষে যাদবপুরে মার্কসীয় ও প্রগতিশীল সাহিত্য বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করছেন।

আরও পড়ুন : লোকসভার দিন ঘোষণার আগেই বুথে বুথে হাজির বিজেপির পন্নাপ্রমুখরা

একটা সময় ছিল যখন অনেক বিতর্কিত নেতা মন্দিরে গিয়ে বা পুজো প্যান্ডেলে মাতৃপ্রতিমা ছুঁয়ে পার্টির রোষানলে পড়েছিলেন৷ বলা হতো ধর্ম যেন এক নেশার দ্রব্য৷ এর থেকে দূরেই থাকা উচিত৷ সেক্ষেত্রে পুজো কমিটিকে পরোক্ষে সহযোগিতা করা ছাড়া পুজোতে প্রবেশ করেনি বাম নেতারা৷ পুজো থেকে কয়েকশো যোজন দূরেই থাকতেন কমরেডরা৷ সময়টা বদলেছে ২০১৬ সালে কলকাতাযর পার্টি প্লে-নামে৷ তারপর থেকেও কমরেডরা দ্বিধাদ্বন্দ্বহীনভাবে পুজো প্যান্ডেলমুখী৷

তন্ময় ভট্টাচার্য এবার নিজের এলাকার চারটে পুজোর ফিতে কাটবেন৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে আরও তিনটির৷ সব মিলিয়ে তন্ময়বাবু পুজো এবার জমজমাট৷ তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিবারই দুর্গা পুজো বেশ উপভোট করি৷ এবারও করব৷ এ আর নতুন কী৷ এই তো গতকালই (চতুর্থী) উত্তর কলকাতার পুজো দেখে এলাম৷ পুরাণ পড়েছি৷ আমি মনে করি, দুর্গা পুজো সামাজিকতা এবং ধর্মের মেলবন্ধন৷’’ তবে কী আপনি মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে পুষ্পাঞ্জলী দেবেন? তন্ময়ের জবাব, ‘‘না৷ আমি সামজিকতায় আছি৷ ধর্মে নেই৷’’

আরও পড়ুন : বাংলাদেশি মুসলমানদের তাড়াতে হবে, পুজো প্যান্ডেলে বোঝাবে বিজেপি

সুজন চক্রবর্তীও বিভিন্ন পুজো প্যান্ডেলে যাচ্ছেন৷ এলাকা মানুষের আনন্দের অংশীদার হওয়াই মূল উদ্দেশ্য৷ সুজনবাবু কথায়, ‘‘কোথাও ফিতে কাটিনি৷ যেখানেই গিয়েছি বয়োজেষ্ঠ কাউকে এগিয়ে দিয়েছি৷ এটা তাঁদের প্রতি সম্মান জানানো ছাড়া আর কিছু নয়৷ পুজোতে বামপন্থীরা আগেও ছিল এখনও আছে৷ কোনও পরিবর্তন হয়নি৷’’ আপনি ফিতে কাটেন না কেন? ‘‘পার্টির কোনও সিন্ধান্ত নেই৷ ওসব বাজে কথা৷ আমি নিজে কখনও মনে করিনি আমার পুজো উদ্ধোধন করা উচিত৷ করলে, তা নিজের প্রতি তঞ্চকতা হবে৷ কিন্তু পুজোর আনন্দ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে সবসময় আছি৷’’

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু চতুর্থীতে যাগবপুরে বুক-স্টল উদ্বোধন করেছেন৷ বক্তব্যও রেখেছেন৷ একান্ত আলাপচারিতায় নিজের ছোটবেলার পুজোর দিনগুলোর কথা এখনও স্মরণ করেন তিনি৷ মাঝেমাঝেই বলেন, ওই সময়টা বেশ মনে পড়ে৷ তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি পুজোর জনসংযোগের বাড়তি ফায়দা তুলছে৷ সরকার টাকা বিলোচ্ছে৷ সিপিএম আর তাই বেশি দূরে থাকতে চাইছে না৷