নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট হয়নি৷ যদিও কংগ্রেসের জেতা জঙ্গিপুর এবং মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী দেয়নি বামফ্রন্ট৷ কিন্তু, বাংলার গণতন্ত্র রক্ষায় কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একসুরেই রাজ্যের শাসক তৃণমূল এবং কেন্দ্রের শাসক বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে৷ কিন্তু ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছে কেরলে৷ কেরল প্রদেশ কংগ্রেস অভিযোগ জানিয়েছে, সিপিএম কেরলে লোকসভা নির্বাচন জিততে দশকের পর দশক ধরে ষড়যন্ত্র করেছে৷ কেরলে লোকসভা নির্বচনে সিপিএম যা করেছে, তা থেকে বলা যায় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে তারা ধ্বংস করছে৷

কেরলে ক্ষমতায় রয়েছে বামফ্রন্ট৷ শাসকজোটের সব থেকে বড় দল দল সিপিএম৷ কিন্তু প্রধান বিরোধী কংগ্রেস৷ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কেরলের ওয়ানাড থেকে লড়াই করছেন৷ তবে সৌজন্য রাখতে ইতিমধ্যেই বলেছেন, সিপিএমের বিরুদ্ধে তিনি প্রচারে কোনও কথা বলবেন না৷ তবে তিনি কিছু না বললেও কেরলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলথে ছাড়েননি৷ প্রদেশ সভাপতি মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্রণের সাফ বক্তব্য, ‘‘কাসারগোড লোকসবা কেন্দ্রে পায়ান্নুর বিধানসভার পিলাথারা ওএউপি বিদ্যালয়ের ১৯ নম্বর বুথে ভুয়ো ভোট হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন কী তা অস্বীকার করতে পারেন? ওর জবাব চাই৷’’

মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্রণের আরও অভিযোগ, ‘‘শুধু মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নই নয়, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণণকেও এই ঘটনার জবাব দিতে হবে৷ মালাবার এলাকায় স্থানীয় সিপিএম নেতারা দশকের পর দশক ধরে ভোটে কারচুপি করছেন৷ এভাবেই দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করেছে সিপিএম৷ নতুন ভোটারদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দিয়েছে সিপিএম – যা একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ৷’’এক ধাপ এগিয়ে রামচন্দ্রণ বলেন, এই নির্বাচনের পরে সিপিএম জাতীয় পার্টির ‘স্টেটাস’ হারাবে৷ কংগ্রেস প্রার্থী রাহুল গান্ধী ওয়ানাড কেন্দ থেকে ৩ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতবেন৷

প্রসঙ্গত কেরলে সিপিএম-কংগ্রেসের লড়াই বহু পুরানো৷ কেরলে বিজেপিও সংগঠন মজবুত করছে৷ ২০১৮ সালের অক্টোবরের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর সিপিএম জানিয়েছে, কেরলে আরএসএস এবং বিজেপির সঙ্গে এক লাইনে রাজনীতি করছে কংগ্রেস৷

সিপিএমের বক্তব্য, শবরীমালা মন্দির প্রসঙ্গে বিজেপি এবং কংগ্রেস একই আচরণ করেছে৷ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি আদালতের রায়ের সঙ্গে একমত৷ বয়সের দিকে না তাকিয়ে ওই মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ অবাধ করা উচিত৷ বিজেপি এবং আরএসএস রাজ্যে আদালতের রায়ের বিরোধীতা করছে৷ কংগ্রেস জাতীয়স্তরে ওই রায়কে স্বাগত জানালেও রাজ্যের নেতারা বিজেপি-আরএসএসের রাস্তাই নিয়েছে৷ এরা সংবিধান বিরোধী প্রচার শুরু করা হয়েছে৷ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রবীণ সদস্যের সাফ কথা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের যা সম্পর্ক তার সঙ্গে কেরলেও কোনও মিল না থাকাটাই স্বাভাবিক৷ কারণ কেরলে তারা বিরোধী৷ কিন্তু শবরীমালা ইস্যুতে তারা বিজেপি-আরএসএসের পাশে দাঁড়াবে তা কল্পনাও করা যায় না৷ এর খেকেই প্রমাণিত এখনও কতটা নির্লজ্জের মতো নিচু রাজনীতি করে কংগ্রেস৷’’