স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: প্রচারে বেরিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলী৷ সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা৷

জানা গিয়েছে, সোমবার সুতাহাটা ব্লকের বারোতলা এলাকায় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার সারছিলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলী। প্রচারে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম থেকে নির্বাচিত হওয়া হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। বারোতলা এলাকায় মিছিলে থাকা কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করতে থাকেন বেশ কয়েকজন মদ্যপ দুষ্কৃতী। এরপর ওই কটূক্তিতে কান না দিয়ে নিজেদের প্রচার মিছিল এগিয়ে নিয়ে যান নেতৃত্বরা।

মিছিল করে ওই পথে পুনরায় ফিরে আসেন সিপিএমের কর্মী, সমর্থক ও নেতারা৷ ঠিক তখনই মিছিলে থাকা বেশ কয়েকজন নেতার উপর চড়াও হয় ওই মদ্যপ দুষ্কৃতীরা। এমনকি প্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলী ও স্থানীয় বিধায়ক তাপসী মণ্ডলকেও হেনস্থার স্বীকার হতে হয়।

এরপরে যখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই সকল মদ্যপ দুষ্কৃতীদের প্রতিহত করতে উদ্যত হয় ঠিক তখনই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা৷ এদিনের এই ঘটনায় আহত হন সিপিএমের বেশ কয়েকজন কর্মী। তাদের স্থানীয় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এদিনের এই হামলার ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলকেই দায়ী করছেন সিপিএম নেতৃত্বরা।

জেলা সিপিএম নেতৃত্বদের দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই ঘটিয়েছে। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। তাদের পালটা দাবি, সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এরূপ ঘটনা ঘটেছে। এদিনের এই ঘটনার পর স্থানীয় সুতাহাটা থানায় এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান প্রার্থী ইব্রাহিম আলী। তবে এ পর্যন্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

এবিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানান ইব্রাহীম আলী। তিনি বলেন, “এদিনের আমাদের প্রচার মিছিলের জন্য সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও এদিন আমাদের মিছিলের উপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।”

প্রার্থীর দাবি, এদিন যেসকল দুষ্কৃতীরা এই মিছিলের উপর চড়াও হয়েছিল তাদের প্রত্যেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আঁকা গেঞ্জি পরেছিল। তাই এক্ষেত্রে তৃণমূল ছাড়া আর কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে না।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি জানান, এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল চক্রান্ত করে ঘটিয়েছে। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক ভোট করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে তৃণমূলের এই চক্রান্ত আর কাজে দেবে না এবং সঠিকভাবে নির্বাচন হবে।