স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট এলাকার একটি মন্দিরে দরিদ্রদের শাড়ি বিলি করে বিতর্কে জড়ালেন বিধায়ক শম্পা দরিপা।

নির্বাচন কমিশনের তরফে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ জুড়ে আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন বিধায়ক কি করে এই ধরণের কাজে নিজেকে যুক্ত করেন। তা নিয়েই জেলা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যদিও বিধায়ক শম্পা দরিপা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, একজন বিধায়ক হিসেবে নয়, ঐ মন্দিরের কার্যনিবাহী সভাপতি হিসেবে তিনি শাড়ি বিতরণ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, বিধায়ক ‘তকমা’ বাইরে রেখে এসে মন্দিরের কার্যনিবাহী সভাপতি হিসেবে এখানে এসেছেন। ধর্মীয় কাজ কর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে না ফেলতেও এদিন তিনি অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঁকুড়া পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান শম্পা দরিপা দলের সঙ্গে মতান্তরের জেরে তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেসের টিকিটে বাঁকুড়া বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই ফের তিনি শাসক শিবিরে যোগ দেন। এখন নিয়মিত তাঁকে তৃণমূলের সভায় দেখা যায়।

বিধায়কের শাড়ি বিলির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিএম ও বিজেপি। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দলের প্রার্থী অমিয় পাত্র কলকাতা ২৪×৭ কে বলেন, আদর্শ আচরণ বিধি চালু হওয়ার পর এক জন বিধায়ক হিসেবে উনি এই কাজ করতে পারেননা। আপনাদের কাছেই বিষয়টি শুনলাম। তথ্য ও ছবি যোগাড় করছি।

ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, তৃণমূল প্রার্থী ও ঐ দলের জেলা নেতৃত্ব নিজের পরাজয় অবশ্যাম্ভাবী তা বুঝে গেছেন। তাই একের পর এক ভুল ও অনৈতিক কাজ তারা করছেন।

শাড়ি বিতরণ করে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে বলেন, বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন৷ একই সঙ্গে তাদের ভোট প্রচারেও বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।