দেবময় ঘোষ, কলকাতা: রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনের পর দুই বছর সরকার চালাতে পারবে কি? ঘোর সন্দেহ রয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের৷ সূর্যকান্তের এই সন্দেহের কারণ তৃণমূলের ভাঙন৷ তৃণমূল নেতারা দল ছাড়ছে৷ বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছে৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের মনে করেন ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করবে বামফ্রন্ট৷ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বিমুখী৷ সূর্যকান্তের কথায় বার্তা স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে তৃণমূলকে তিনি দেখছেন না৷

গণশক্তি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে (ইউটিউবের নির্বাচিত অংশে) সূর্যকান্ত বলেন, ‘‘এই রাজ্যে তৃণমূলের যে সরকার রয়েছে, আমার মনে হয় নির্বাচনের পর এমন একটা অবস্থা হবে, তারা তারপরে দু’বছরে সরকার চালাতে পারবেন কি না সেবিষয়ে সন্দেহ …৷ তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ দলটা ভেঙে যাচ্ছে৷ দলটার উপর থেকে নিচে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ এবং লড়াইটা তখন হবে… এখানে৷ যে… বামপন্থীদের বর্ধিত শক্তি নিয়েই সেই লড়াই৷ বিজেপি যাতে পশ্চিমবাংলায় মাথা তুলতে না পারে৷’’

সূর্যকান্তর কথা, ‘‘বিজেপি বলছে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন৷ ঠিক কথা৷ আমরাও ২০১১ থেকে বলছি৷ তখন বিজেপি কোথায় ছিল?’’ তার আরো বক্তব্য, ‘‘বাংলায় যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে তাতে ৩৪ শতাংশ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে৷ আর ত্রিপুরায় বিজেপির আমলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে৷ এরা (বিজেপি-তৃণমূল) একে ওপরের পরিপুরক৷’’

বাংলায় বাম ভোট বিজেপির ঘরে ঢুকছে নাকি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মানুষ মুখ ফেরাচ্ছে – সেপ্রশ্নের উত্তর পেতে বেশ ২৩ মে বা তার পরেও অপেক্ষা করতে হতে পারে৷ কিন্তু ২০০৯ সালের পঞ্চেয়েত নির্বাচনে ৩ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ ভোট ২০১৮ সালে বাড়িয়ে নিয়েছে বিজেপি৷ বাম, কংগ্রেস নাকি তৃণমূল – কোন শিবির থেকে এই ভোট গিয়েছে তার চর্চা করছেন রাজনৈতিকমহল৷ রাজ্যে বাম-বিজেপি দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতবাণী করে নতুন বির্তকের জন্ম দিয়েছেন সূর্যকান্ত৷