ফাইল ছবি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: জ্যোতি বসু সেন্টার ফর স্টাডিজ এবং রিসার্চ -এর জমির দখলদারিত্ব চাইতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম৷ সিপিএমের তিন নেতা – সুজন চক্রবর্তী, রবীন দেব এবং অশোক ভট্টাচার্য শুক্রবার মমতাকে জানান, টাকা দেওয়া সত্ত্বেও জমির পজেশন বা দখলদারি পাওয়া যায়নি৷ বরং নিউটাউনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিডকো সিপিএম-কে অন্য জমি দিতে চেয়েছে৷ রবীন দেবের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি শুনে বলেছেন, সিপিএম যে জমি চাইছে, সেই জমিতে কিছু বিতর্কিত বিষয় বা ‘ডিসপুট’রয়েছে৷ দেখতে হবে৷

সিপিএমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নিউটাউনে হিডকো এই জমি বরাদ্দ করে৷ ২০১১ সালের ১২ মে সমস্থ টাকা হিডকো-কে দিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, আজ পর্যন্ত, রাস্তার পাশে, ওই পাঁচ একর জমির দখলদারিত্ব পায়নি সিপিএম৷ রবীন দেব আরও জানান, হিডকোর চেয়ারম্যান কাম ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (সিএমডি) তাঁদের আসল জমির জায়গায় একটি জলা জমি দেখিয়েছেন৷ ওই জলা জমি সিপিএম নিতে চায় না৷

মনে রাখা প্রয়োজন, ২০১১ সালের ২০ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করে৷ তবে সরকার গঠনের আগেই ২০১১ সালের ১২ মে সমস্থ টাকা হিডকো-কে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, দাবি করেছে সিপিএম৷ পালটা অভিযোগ, যে জমি সিপিএম কিনতে চেয়েছে, হিডকো তা দিতে এখন দিতে পারছে না৷

প্রসঙ্গত, নিউটাউনকে জ্যোতি বসু নগর নাম দিতে চেয়েছিল রাজ্যের বাম সরকার৷ সেই মতো নিউটাউনে হিডকো ভবনের মূল দ্বারের বাইরে ‘জ্যোতি বসু নগর’ লেখা প্রস্তরখণ্ড আটকানো হয়৷ কিন্তু কিছুদিন পরই ওই প্রস্তরখণ্ড খুলে ফেলাও হয়৷ নতুন রাজ্য সরকার দাবি করে, বাম সরকার নিউটাউনের নাম ‘জ্যোতি বসু নগর’ করার ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল৷ বিল বিধানসভায় পাশ হয়েছিল৷ বিলটির নাম ছিল, নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১০৷ পাঠানো হয় রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের অনুমোদনের জন্য৷

এরমধ্যেই বামফ্রন্ট রাজারহাটকে জ্যোতি বসু নগর করা হবে বলে একটি অনুষ্ঠানও সেরে ফেলে৷ ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, আবাসন মন্ত্রী গৌতম দেব এবং সাংবাদিক এম জে আকবর৷ নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে৷ রাজ্য সরকারের কাছে আগের সরকারের কিছু বিল ‘রিভিউ’র জন্য পাঠান রাজ্যপাল নারায়ণন৷ সেই বিলগুলির মধ্যে ছিল নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১০৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বিলটি থেকে ‘জ্যোতি বসু নগর’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে৷ তবে নিউটাউনে সম্পত্তি করের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়নি৷

নিউটাউনের যে জায়গাতে এখন ইকো-পার্ক রয়েছে সেখানে একটি ছোট দ্বীপও রয়েছে৷ বাম সরকারের আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেবের ইচ্ছা ছিল, ওই দ্বীপের মাঝে জ্যোতি বসুর একটি মূর্তি তৈরি করা হোক৷ এখাবেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু জ্যোতি বসু নরের সঙ্গে গৌতমবাবু সেই ইচ্ছাও জলাঞ্জলীতে যায়৷

তবে নামের বিষয়টি একেবারেই ভুলে যেতে চায়না পার্টি৷ রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আজ (শুক্রবার) আর নামের ইস্যুটা তুলিনি৷ তবে এটা ঠিক মমতাই জ্যোতি বসু নগরের নামটা বাদ দিয়েছিল সেই সময়৷ ইস্যুটা পরে আবার তোলা যাবে৷ তবে মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ওই গবেষণা ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হোক তা আমরা চাই৷ সেমিনার হতে পারে৷ আন্তর্জাতিক আলোচনা হতে পারে৷ মুখ্যমন্ত্রী, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বলেছেন৷ আমাদের দলের তরফে প্রতিনিধি দল আবার নিউটাউনে গিয়ে সমপরিমাণ জমি চিহ্নিত করবে৷’’