স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশের দিনেই রাজ্যে আসছেন সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

লোকসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাবেশ করবে তৃণমূল কংগ্রেস। অবিজেপি বহু রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা হাজির থাকবেন সেই মঞ্চে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শনিবারের এই ব্রিগেড সমাবেশ কার্যত নজিরবিহীন হতে চলেছে। কারণ এক মঞ্চে দেখা যাবে একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের। যারা বিভিন্ন সময়ে পরস্পর পরস্পরের বিরোধী ছিলেন। এই মুহূর্তে দেশ জুড়ে গেরুয়া ঝড় রুখতে সবাই জোটবদ্ধ হয়েছেন। এই একই ছবি দেখা গিয়েছিল গত মে মাসে বেঙ্গালুরুতে। কর্ণাটকের জোট সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল এই ছবি।

সেই সময় থেকে মোদী বিরোধী জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই মঞ্চেই ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল যুযুধান মায়াবতী এবং অখিলেশ যাদবকে। সেই এক মঞ্চেই সিপিএম শীর্ষ নেতা সীতারাম ইয়েচুরি হাজির ছিলেন। পাশাপাশি ওই মঞ্চে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডে থাকছে না সিপিএম সহ কোনও বাম দল। একথা আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে বামেরা। সিপিএম-এর পক্ষ থেকে তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শনিবারেই রাজ্যে আসছেন সীতারাম ইয়েচুরি। রাজ্যের সিপিএম নেতা এবং সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে সভা করবেন উত্তরবঙ্গে।

মাস খানেক আগে উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট স্কুলের গণ্ডগোল নুর কেড়েছিল সমগ্র দেশের। স্কুলের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। যার রেশ এখনও চলছে। এখনও বন্ধ রয়েছে সেই স্কুল। সেই দাড়িভিটেই শনিবার সভা করবে সিপিএম।

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে সীতারাম ইয়েচুরির মতো হেভিওয়েট নেতার সভার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। সিপিএম-এর অভিযোগ একাধিকবার পুলিশের কাছে আবেদন করলেও সভার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে রায়গঞ্জের সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত প্রশাসনকে তৃণমূলের সভার জন্য ব্যবহার করছেন। অথচ সীতারাম ইয়েচুরির সভার অনুমতি দিচ্ছেন না।” এই বিষয়ে বামেদের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, “সভার অনুমতি নেওয়ার জন্য যা যা করার সব করা হয়েছে। তবুও অনুমতি দেওয়া হয়নি।” তাহলে এখন কী হবে? এই বিষয়ে শতরূপের জবাব, “সভা আমরা করবই।”