কলকাতা: কৃষি বিল পাস করানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর। সদ্য সংসদের দুই কক্ষে পাস হওয়া এই বিলকে ‘ভয়ংকর-সর্বনাশা’ বলেও মন্তব্য করেছেন এই বাম নেতা। শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি বিল এনেছে বলে তোপ দেগেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। কৃষি বিলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুজন।

লোকসভার পর রবিবার রাজ্যসভাতেও পাস হয়ে যায় কৃষি বিল। এদিন এই বিল পাসের সময় রাজ্যসভার অধিবেশন কক্ষে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার চলতে থাকে স্লোগানিং।

এমনকী ওয়েলে নেমেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। কৃষি বিলের কপিও ছিঁড়ে দেয় বিরোধীরা। তবে প্রবল বাক-বিতন্ডার মধ্যেও রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়ে যায় কৃষি বিল।

কয়েকদিন আগেই লোকসভাতেও পাস হয়েছে কৃষি বিল। তবে রাজ্যসভায় এই বিল পাস করানোটা কেন্দ্রের কাছে একটা মস্ত চ্যালেঞ্জ ছিল। কৃষি বিল নিয়ে দেশের একাধিক রাজ্যে প্রতিবাদে সরব হয়েছে কৃষক-সমাজ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কৃষি বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কৃষি বিল নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলার পাশাপাশি তুমুল সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সদ্য সংসদের দুই কক্ষে পাস হওয়া এই বিলকে ‘ভয়ংকর-সর্বনাশা’ বলেও মন্তব্য করেছেন এই বাম নেতা।

টুইটে সুজন চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘‘ভয়ংকর সর্বনাশা কৃষি বিল এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে প্রতিবাদে কৃষক সমাজ। এবার শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেবার প্রচেষ্টায় সর্বনাশা বিল। কিছুতেই মানবে না মানুষ। জ্বালিয়ে দেবে।’’

একইসঙ্গে এই বিল পাস করানো নিয়ে মোদী ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদেরও একহাত নিয়েছেন সুজন। টুইটে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘কার আচ্ছে দিন, মোদীজি? আদানি, আম্বানিদের দালালি চলবেনা। মানুষ রাস্তায় আছড়ে পড়বেই।’’

কৃষি বিলের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কেন্দ্র-বিরোধী সুর চড়া হচ্ছে। পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। করোনা পরিস্থিতির জেরে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে দেরি হলেও আগামি দিনে এই বিক্ষোভ বড়সড় আকার ধারণ করবে বলে কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধীরা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।