কলকাতা২৪x৭: বাম জমানা থেকে একেবারে হালের তৃণমূল আমল সংঘাতময় নানুরে আছে আরও একটা কাহিনি। সেই কাহিনির নায়িকার আছে মাটির বাড়ি খড়ের চালা।

এ এক আলিশান বসত ভিটে ! ভাঙা বেড়া, মাটির ঘর, খড়ের চালা নিয়ে ‘আশিয়ানা’ বাম বিধায়ক শ্যামলী প্রধানের। রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ বিধানসভা নানুর থেকে তীব্র বাম বিরোধী হাওয়াতে গতবার জয়ী হন।

বিধায়ক শ্যামলী প্রধানের আরও একটি বে-নজির ‘নজির’-তিনি কুঁড়ে ঘরের বিধায়ক! তিন বছর বীরভূম জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন। দশ বছর নানুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ বিধায়ক। অভিযোগ, সিপিআইএম নেত্রীকে ‘ডাকাত’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। এর জেরে জেলার রাজনৈতিক মহল সরগরম।

বৃহস্পতিবার নানুরে সংযুক্ত মোর্চার বাম প্রার্থী শ্যামলী প্রধানের প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার তরফে ‘হাত কেটে নেব’ হুমকির ভিডিও রাজ্য জুড়ে প্রবল আলোড়ন ফেলেছে।

বীরভূম জেলা সিপিআইএম তাদের ফেসবুক পেজে বিধায়ক শ্যামলী প্রধানের সঙ্গে আগরতোর গ্রামের টিএমসি নেতা নূরমান শেখের বচসা তুলে ধরে। সেই ভিডিও হয়েছে ভাইরাল। তাতে দেখা যায় শ্যামলী প্রধানকে হুমকি দিয়ে গ্রামে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে ওই টিএমসি নেতা। বচসার মাঝে হঠাৎ ওই তৃণমূল নেতা ‘হাত কেটে নেব’ বলে হুমকি দেয়। তার পরেই সে পিছু হটে সরে যেতে চায়। তাকে তাড়া করেন বিধায়ক শ্যামলী প্রধান। ফের একবার ওই টিএমসি নেতাকে ঘিরে সিপিআইএম কর্মীদের বচসা শুরু হয়।

শ্যামলী প্রধান জানিয়েছেন, সম্প্রতি এই নানুরেই বাম সমর্থকদের উপর হামলা করা হয়। জখম সমর্থকরা প্লাস্টার নিয়েই পরেরদিন মিছিলে অংশ নেন। তৃণমূল কংগ্রেস পায়ের তলায় জমি হারাচ্ছে তা স্পষ্ট।

সিপিআইএমের শ্যামলী প্রধানের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝি। বিজেপির প্রার্থী তারক সাহা। ত্রিমুখী লড়াই নাকি দ্বিমুখী লড়াই এই প্রশ্ন থাকবেই। তবে সাংগঠনিক শক্তিতে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কিছুটা পিছিয়ে নানুরে। এই কেন্দ্র টিএমসির গলার কাঁটা। নির্বাচনে প্রথম ‘খেলা হবে’ পরে ‘ভয়ঙ্কর খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে কমিশনের নজরে অনুব্রত।

বীরভূম জেলা সিপিআইএমের হিসেব গত দু’বছরে তৃণমূলের জমি আলগা হয়েছে। আর নানুরে সরাসরি টিএমসি কে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা আছে বামেদের। বারবার সংঘাতপূর্ণ রক্তাক্ত পরিস্থিতির কারণে নানুর সাড়ে তিন দশকের টানা বাম জমানা থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে। ২০১১ সালে নানুর হাতছাড়া হয় সিপিআইএমের। ২০১৬ সালে ফের বাম দখলে আসে এই বিধানসভা। তার পর থেকে গত পাঁচ বছর বিধায়ক শ্যামলী প্রধানের মাটির ঘর-খড়ের চালার জীবন বারবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

সাংগঠনিক শক্তি সম্বল আর কিছু নেই। শ্যামলী প্রধানের লড়াই ‘হাত কেটে নেব’ হুমকির বিরুদ্ধে যেমন তেমনই কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরির জন্য। এমনই জানাচ্ছেন বাম নেতারা। তৃণমূলের দাবি, মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে বামেরা। রাজ্যে উন্নয়ন চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নানুর এবার সেই উন্নয়নের শরিক হবেই।

ঠা ঠা রোদ্দুরে, কাঠফাটা গরমে শ্যামলী প্রচার লড়ে ফিরলেন তাঁর বাড়িতে- সেই মাটির ঘরে। বিধায়ক কামিয়ে নিতে পারেননি, সে কথা নানুরের তৃণমূল সমর্থকরাও বুক বাজিয়ে বলে দেবেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.