স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ তিনরাজ্যে হার। এর পাশাপাশি রথযাত্রা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা ব্যাকফুটেই রয়েছে বিজেপি। যদিও শেষ কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যের দ্বিতীয় বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তারা। এসবের মাঝেই জনসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বাড়াতে সচেষ্ট হয়েছে সিপিআইএম।

২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে যুবনেতৃত্বের হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাম দলটি। সম্প্রতি কোচবিহারে বন্ধ চা-বাগান এর কর্মীদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনলেন সিপিআইএম-এর যুবনেতা শতরূপ ঘোষ। পাশাপাশি বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে রাজ্য সরকারকে হুশিয়ারিও দেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য এই কমিটির সদস্য।

বানরহাট চা বাগান বেল্ট-এর একটি মিটিং-এ শতরূপ বলেন, “ধর্মঘটের দিন গুন্ডা নামিয়ে বন্ধ দোকান খুলিয়ে অনেক তো বীরত্ব দেখালেন। ক্ষমতা থাকলে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানগুলো খুলে দেখান। আপনার সে মুরোদ না থাকলে ৮-৯ জানুয়ারী ধর্মঘট হচ্ছেই।” এছাড়াও এই এলাকায় যে চাবাগানগুলো বন্ধ রয়েছে (যেমন রেড ব্যাংক, সুরেন্দ্রনগর ও ধরনীপুর) সেগুলো খোলার জন্য রাজ্যসরকারকে হুঁশিয়ারি দেন শতরূপ। এছাড়াও গোটা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বেশ কিছু বাগান বন্ধ বা বন্ধ হওয়ার মুখে, এমনটাই বক্তব্য শতরূপের।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ৩ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের আগে দেশ জুড়ে দুই দিনের সাধারণ ধর্মঘট সফল করতে উঠে পড়ে লেগেছে বাম সংগঠনগুলি। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে নিজেদের অস্তিত্ব বোঝাতে পুজোর পর থেকে লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে চলেছে বাম দলগুলি।

নভেম্বর মাসে ২৮-২৯ সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অভিযান, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মহামিছিল। এই দুই কর্মসূচি সফল হওয়ার পর রাজ্যের বাম নেতা কর্মীরা মনোবল ফিরে পাচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

দলে শতরূপের মত যুব নেতারা বিভিন্ন ইস্যূ থেকে রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুক্রবার কোচবিহারের বন্ধ চা বাগানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর শনিবার জলপাইগুড়িতে কর্মীদের সঙ্গে দলীয় সভা করার কথা জানান শতরূপ।