স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইভিএম ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে পাশে নিয়ে আন্দোলন করতে কোনও অসুবিধা নেই সিপিএমের। এমনকি, যদি মনে করে তবে বিজেপিও এই আন্দোলনে আসতে পারে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সিপিএম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একজোট হয়ে নির্বাচন কমিশনে জবাব চাইতে পারে।

এই জোটকে রাজনৈতিক জোট ভাবার কোনো কারণ নেই। দেশে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার জন্য ইভিএম-এর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চাই। ভারতের নির্বাচন কমিশন এখনও অনেক উত্তর দেয়নি। তবে ইয়েচুরি এও জানিয়েছেন, ভোটে সুবিধা পাওয়ার জন্য ইভিএম-এর বিরুধ্যে প্রশ্ন তোলা হয়নি। এক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনের পরেই বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে, আদালত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ইভিএম-এর বিরোধিতা করছে। ভোটযন্ত্র বা ইভিএম-এর বদলে ব্যালট চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এই নতুন দাবীকেই হাতিয়ার বানাতে চাইছে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, বামফ্রন্টও ব্যালট-প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই। সেক্ষেত্রে চলতি বছরে ‘২১ শে জুলাইয়ে’র মূল মন্ত্র ‘ইভিএম নয়, ব্যালট চাই’ প্রসঙ্গে মমতাকে একলাই চলতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে ইয়েচুরি বলেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদল গণতন্ত্রকে খুন করেছে। সেই নির্বাচনেও ব্যালটে ভোট হয়েছিল। ব্যালটে ভোট জেতা হবে, ইভিএম-এ ভোট হারা হবে, বিষয়টি এই রকম নয়। বিজেপি অবশ্য বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চেয়েছে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ইতিমধ্যেই বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে কিভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন তা ভুলে গেলেন। ইভিএম মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উনি বলছেন যন্ত্রে গণ্ডগোল।

আবার, বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী যা বলেছেন, যা প্রায় দিলীপের বক্তব্যের ‘আয়নার প্রতিচ্ছবি।’ সুজনের বক্তব্য, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ইভিএম-এ জিতে মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তখন সব ঠিক ছিল। এখন সব গণ্ডগোল। ইভিএম-এর তদন্তের দাবিতে বাম-কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরব হয়েছে।

কিন্তু, রাজ্যে , মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী যদি পুর ভোটে আবার ব্যালট ফিরে আসে তবে গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবার বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং বিধানভবন। সেক্ষেত্রে সীতারাম যতই বলুন, ইভিএম আন্দোলনে দরকার হলে বিজেপিও আসতে পারে। কোনও অসুবিধা নেই, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্যালটে হাত দিতে যেতে নারাজ বাম-কংগ্রেস।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.