আগরতলা: রাজ্যে উপজাতি এলাকা (এডিসি) নির্বাচন ঘিরে হিংসাত্মক পরিবেশ বড়সড় হতে চলেছে। আগামী ৪ এপ্রিল ভোট। তার আগেই চরম উত্তেজনা রাজনৈতিক মহলে। বুধবার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শীর্ষ সিপিআইএম নেতা বাদল চৌধুরীর উপর হামলা হলো। ঘটনার জেরে আগরতলা সহ ত্রিপুরার সর্বত্র ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। তিনি চিকিৎসাধীন।

লিখিত বিবৃতি দিয়ে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরীর উপর হামলায় বিজেপির দুর্বৃত্ত বাহিনি জড়িত। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

এদিন রাজ্যের অন্যতম ককবরক ভাষা আন্দোলনের শহিদ ধনঞ্জয় ত্রিপুরার ৪৭তম আত্মবলিদান দিবস পালন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বাইক বাহিনির হাতে আক্রান্ত হন বাদলবাবু সহ বাম নেতারা।

বাদল চৌধুরী প্রাক্তন মন্ত্রী ও ঋষ্যমুখ বিধানসভা কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক। তাঁর নিরাপত্তায় থাকা রক্ষীদের উপরেও হামলা চলে। নিজ কেন্দ্রে এর আগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন বাম জমানার দাপুটে মন্ত্রী।

সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিলোনিয়ার মানিরাম বাড়িতে ককবরক ভাষা শহিদ দিবস পালন হচ্ছিল প্রতিবারের মতো। সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আগাম অনুমতি নেন বাদল চৌধুরী। ঋষ্যমুখ বিধানসভার মানিরামবাড়িতে শাসক দলের দুর্বৃত্তরা হামলা করে। প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা বাকিরাও জখম হয়েছেন। গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

বাদল চৌধুরীর উপর হামলার খবরে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়েছে উত্তেজনা। ঋষ্যমুখ বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় সিপিআইএম সমর্করা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এই বিধানসভার অন্তর্গত বিলোনিয়া গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত।

গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও আইপিএফটি জোটের সরকার গড়ার পর থেকেই বিলোনিয়ায় বহু বাম সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এমনই অভিযোগ সিপিআইএমের। সম্প্রতি বিলোনিয়াতে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়ায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকার এলাকা পরিদর্শন করেন।

মানিক সরকার আসন্ন এডিসি নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার চালাতে ব্যর্থ। জনতার কাছে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে হামলা চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে বিজেপি। মানিকবাবু বিলোনিয়া পরিদর্শন করে যাওয়ার পরেই আক্রান্ত হলেন রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট বাম নেতা বাদল চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশন উপজাতি স্বশাসিত এলাকার নির্বাচন ঘোষণা করার পরেই সর্বপ্রথম বড়সড় হামলা হলো বিলোনিয়া। এডিসি নির্বাচনে গতবার নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল সিপিআইএম। তবে গত বিধানসভা ভোটে টানা দু দশকের বাম শাসনের পতন হয়। তারপর থেকে বারবার রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ এসেছে ত্রিপুরা থেকে।

রাজ্যে ৯০ শতাংশের বেশি পঞ্চায়েত এখন বিজেপির দখলে।বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, ভোট লুঠ করে এই ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল ছিল কংগ্রেস। দলত্যাগ করে কংগ্রেস বিধায়করা সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি তে যোগদান করেন।

সুদীপবাবু এখন বিজেপির অভ্যন্তরে ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের নেতা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব যেভাবে সরকার চালাচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে রাজ্যে বিজেপির অস্তিত্ব থাকবে না।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.