হলদিয়া: পরিবর্তনের পর পূর্ব মেদিনীপুরে বিলীন ছিল বামেরা। অন্তত বটগাছ গজিয়ে যাওয়া পার্টি অফিসগুলোর চেহারা সেটাই বলত। ২০১০ থেকে ধরলে গত দশ বছরে সিপিআইএম পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটি ধীরে ধীরে পুরনো এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। মঙ্গলবারের বাইক মিছিল প্রমাণ দিল সেটাই।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পুরনো ছন্দে ভয় ধরাতেই এমন করেছে বাম সমর্থকরা। আর গত লোকসভায় আচমকা তৃণমূল ও বাম শিবিরে ধস নামিয়ে ১৮ জন সাংসদ পাওয়া বিজেপি নীরব।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবার রাজ্য জুড়ে দবি দিবস পালন করে সিপিআইএমের যুব ও বিভিন্ন শাখা সংগঠন। তবে নেতৃত্বের নজর ছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। বেলা গড়াতেই মুখে হাসি চওড়া হয় রাজ্যে সাত শতাংশে নেমে আসা বাম নেতাদের। বিশাল বাইক মিছিল পরিক্রমা করে নন্দীগ্রাম-২ ব্লক।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়ে রক্তাক্ত নন্দীগ্রাম ছিল বাম জমানা পতনের ইশারা। সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের পর তৃণমূলের উঠে আসার পিছনেও নন্দীগ্রাম।তারপর বামেদের মরা স্রোতে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল দাপট ও গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হঠাত উত্থান।

এহেন নন্দীগ্রামে বামেদের বাইক মিছিল পুরনো কায়দায় হার্মাদ হানা বলেই মনে করছে তৃণমূলের স্থানীয় নেৃতৃত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতাদের কথায়, বামেরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তা পার্টি অফিসগুলো পুনরুদ্ধার করা থেকে বোঝা যাচ্ছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে শূন্য হয়ে গেলেও বিভিন্ন এলাকায় বাম সমর্থকরা দলীয় দফতর ‘পুনরুদ্ধার’ করতে শুরু করেন। উল্টো ছবি দেখা যায় শাসক তৃণমূল শিবিরে। একের পর এক এলাকায় বন্ধ হতে থাকে তাদের দফতর।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ, কর্মের সংস্থান নেই। এমনই অভিযোগে বারবার আন্দোলন করেছে বামেরা। মঙ্গলবার দাবি দিবসে সেই চিত্র দেখা গেল রাজ্য জুড়ে। তবে নন্দীগ্রামের বাইক মিছিল ছিল ব্যাতিক্রমী। বাম শিবির তো বটেই শাসক শিবিরও মানছে সেটা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।