মালদহঃ  সামনে কুরবানি ঈদ। উত্তরে মালদহ জেলা এবং মুর্শিদাবাদের মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে বিশাল গঙ্গা নদী। ঠিক পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ। অন্ধকার নামতেই ভারত থেকে গঙ্গা নদী হয়ে চোরাপথে বাংলাদেশের পথে শয়ে শয়ে গরু। পুলিশ প্রশাসন এবং বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে বআবার শুরু হয়ে গিয়েছে সীমান্ত দিয়ে এভাবে গরু পাচার। একই সঙ্গে যেহেতু বর্ষা নেমে গিয়েছে সেহেতু এই চোরাপথ ব্যবহার করতে চোরাপাচারকারীদের আরও সুবিধা হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।

স্বক্রিয় ভারত ও বাংলাদেশের কুখ্যাত পাচারকারী সিন্ডিকেট। বিগত কয়েক বছরে এই দুই সিন্ডিকেটের আয় প্রতিমাসে আনুমানিক ২২৫ কোটি ভারতীয় টাকা। সমস্ত টাকা মেটানো হচ্ছে হুন্ডার(ঠিকা) মাধ্যমে। যাকে পাচারকারীরা টিটি বলে। উত্তর প্রদেশ বিহার থেকে সড়কপথে মালদহের কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর, মুর্শিদাবাদের সুতি, নিমতিতা, অর্জুনপুর এলাকায় জমা করা হয় গরু। এই গরু পাচারের জন্য ব্যবহার করা হয় এক ধরণের টোকেন স্লিপ অর্থাৎ পাচারকারী সিন্ডিকেট একটি কাগজে লিখে দিচ্ছে কতগুলো গরু কোন রাখালের মাধ্যমে কোন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে যাবে।

নির্দিষ্ট গোপন ডেরায় এইগুলি মজুত করা হয়। কেবল লাইনের অপেক্ষা। এই লাইন হল কিছুক্ষণের জন্য সীমান্ত রক্ষীরা প্রহরা কিছুটা শিথিল করবে। আর সেই সুযোগে শয়ে শয়ে গরু ভারতীয় ও বাংলাদেশী পাচারকারীদের মাধ্যমে গঙ্গা নদী পার করে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে KOlkata24x7 এর হাতে।

এমনই বুধবার মুর্শিদাবাদ এলাকা থেকে পাচারের সময় প্রচুর গরু মহিষ উদ্ধার করে বিএসএফ। একই কায়দায় মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার শিবপুর দিয়ে বাংলাদেশের পাচার করা হচ্ছে গরু। মালদহ জেলা পরিষদের এক সদস্যের কথায়, বর্ষা আসতেই সীমান্ত এলাকায় পথঘাট সন্ধ্যের পরে চলে যাচ্ছে গরু পাচারকারীদের দখলে

বিজেপির জেলার মুখপাত্র অজয় গাঙ্গুলি বলেন, এর আগেও আমরা গরু পাচার নিয়ে সরব হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে মালদহের বৈষ্ণবনগর ও মুর্শিদাবাদের সুতি ও লালগোলা এলাকার পাচারকারীদের করিডোর। প্রতি বছরই এই সময় তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় কাঁটাতার নেই আর সেই সুযোগ নিয়ে গরু পাচারকারীরা বিএসএফের চোখ এড়িয়ে এইগুলি বাংলাদেশে পাচার করে। তাঁর অভিযোগ, এই গরুগুলি যখন ভিন রাজ্য থেকে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক ধরে সীমান্ত এলাকায় আনা হয় পথে পুলিশ মোটা টাকা তোলার বিনিময় গরু ভর্তি গাড়ি গুলিকে ছেড়ে দেয়।

মালদহ জেলায় বিহারের কাটিহার থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর হয়ে সীমান্ত এলাকায় এই গরু গুলি আনা হয়। প্রায় ছয়টি থানা পেরিয়ে এই গরু গুলিকে সীমান্ত এলাকায় আনতে হয়। কিন্তু সব জেনেও বুঝেই চুপ থাকে পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ বিজেপি নেতার। তাঁর দাবি, গত বছরও একই কায়দায় গরু প্রাচার হচ্ছিল। আমরা সরোব হয় তা বন্ধ হয়ে যায়। আসলে শাসক দলের ছত্রছায়ায় চোরাকারবারীরা এই কারবার চালায় বলে অভিযোগ অজয়বাবুর। এর আগেও গরু পাচার সঙ্গে শাসক দলের নেতাদের যোগসাজশে প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছিল বলে অভিযোগ তাঁর।

মালদহের সীমান্তবর্তী হবিবপুর এলাকার তৃণমূল নেতা অমল কিস্কু বলেন, কোনরকম পাচার সিন্ডিকেট কাঠ মানি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরেও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি এই কাজ করে থাকে পুলিশ যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা নেবে। দ্বিতীয়তঃ তার প্রশ্ন সীমান্ত প্রহরা দায়িত্বে থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিএসএফ। তারা যদি চাই একটা মুরগি ও ওপারে যেতে পারবে না। তাহলে এত গরু কিভাবে যাচ্ছে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।