মালদহঃ   উধাও হয়ে যায় ১০ টাকার নোট। ২০১৬-১৭ সাল মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর, মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি,জলঙ্গি, লালগোলা ভগবানগোলা, ডোমকল ও রাণীনগরের মত এলাকায় রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যায় দশ টাকার নোট। হঠাত করে ১০ টাকার নোট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায় যে, গরু পাচারকারীদের সৌজন্যে বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল।

পড়ুন আরও- আরবের টাকায় ‘বড়লোক’ এনামূল, বাংলাদেশে বসে দাপিয়ে কাজ চালাচ্ছে হাজি মাস্তান

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, গরু পাচারের সংকেত ও হিসেব লেখা হতো দশ টাকার নোটের গায়ে। আর সেই কারণেই গরু পাচারকারীরা সমস্ত দশ টাকার নোটে বাজার থেকে তুলে নিয়েছিল। যার ফলে এই সমস্ত এলাকায় বাজারে রীতিমত দশ টাকার নোটের টান পড়েছিল।

কিভাবে লেখা হতো এই নোটের হিসাব?

গরু কি রকম হবে সেটাও ওই ১০ টাকার নোটে বলা থাকত। শুধু তাই নয়, ১০ টাকার নোটগুলিতে লেখা থাকতো কটা গরু যাবে সীমান্তের ওপারে। অর্থাৎ বাংলাদেশে। গরুর সাইজ কি হবে এবং কোন তারিখে যাবে সবটাই উল্লেখ হতো ১০ টাকার নোটে। শুধু এখানেই শেষ নয়! প্রতিটি নোটের নম্বর মূল পাচারকারীদের কাছে রাখা থাকতো।

হঠাত করে কেন ১০ টাকার নোটকেই বেছে নেওয়া হল?

এই সম্পর্কে গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা জানতে পারে যে এর আগে কাগজের চিরকুটে হিসেবে লেখা থাকতো। কিন্তু তাতে যারা গরু নিয়ে যেত তারা হিসেবে গড়মিল করছিল। সমস্যার মধ্যে পড়ে যেত এপার এবং ওপার বাংলার কারবারিরা। আর সেই কারণেই মূল পাচারকারীরা একে অপরের সঙ্গে নোটের নম্বরের মাধ্যমে লেনদেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিল। তদন্তে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আর এভাবে নোটের নম্বর দিয়ে চোরা চালান ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হতে শুরু করল! চোরাচালানের ক্ষেত্রে কোনও গড়মিলও থাকছিল না। আর সেই কারণে গরু চোরাচালানের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ১০ টাকার নোটকেই ব্যবহার করা শুরু করে গরু পাচারকারীদের চাইরা।

আর সেই কারণে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হল ১০ টাকার নোটের! রাতারাতি বাজার থেকে উধাও হতে গেল ১০ টাকার নোট! এমনকি ব্যাংক থেকে সব দশ টাকার নোট তুলে নিত গরু সিন্ডিকেটের মাথারা।

২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের একাংশের গরু পাচারের সিন্ডিকেটের চাঁই এনামুল ও আনারুল হকের সঙ্গে বিএসএফের তৎকালীন কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারের বোঝাপড়া ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। সেই সময় কুখ্যাত গরু পাচারকারী তথা হাউলা ট্রেডার্স এনামুল হকের নেতৃত্বে গরু পাচার সংগঠিত কারবারের রূপ নেয়।

গরু নিয়ে যারা গঙ্গা নদী টপকে সীমান্তের ওপারে যেত তাদের বলা হত ‘পাছার’। বিএসএফের কাছে এদের নাম ছিল ‘হ্যান্ডেলা’র। প্রত্যেক ‘পাছার’কে দুই থেকে ছটি গরু দেওয়া হতো। একটি ১০ টাকার নোটে লেখা থাকতো কটি গরু যাচ্ছে,তাদের সাইজ কত। কোন তারিখে পাঠানো হলো।

আর দিনের শেষে নোটের নম্বর মিলিয়ে সমস্ত হিসেব রাখা হতো। আর সেই মতো চলত বিলি-বণ্টন। ভারত থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে গরু! যদিও ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই গরু পাচারের ব্যবসায় ভাটা পড়ে।

রাতারাতি সীমান্তে নজরদারি দ্বিগুণ বাড়ানো বাড়ানো হয়। রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায় বিএসএফের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ানের বিভিন্ন পদমর্যাদার আধিকারিকরা। কড়া হয় দুদেশের মনোভাব। বর্তমানে গরু পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেই সময় বিশু শেখ ওরুফে এনামুল হকের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট অন্যান্য সব সিন্ডিকেটকে ছাপিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

আর এই উত্থানের পিছনে ছিল প্রভাবশালীদের হাত। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে এই প্রভাবশালীদের খুশি রাখতো এনামুল হক ও তার সিন্ডিকেট। এই ভাবেই মুর্শিদাবাদের অমরপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি হোটেলে বসে কোটিপতি হয়ে ওঠে এই গরু পাচারকারী।

সম্প্রতি গরু পাচার নিয়ে কোমড় বেঁধে নেমেছে সিবিআই। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

ইতিমধ্যে বিএসএসের এক আধিকারিককে নজর রেখেছে সিবিআই। শুধু তাই নয়, আরও বেশ কিছু প্রভাবশালীও রয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদের ‘নজরবন্দি’ করেছে সিবিআই। আর এরই মধ্যে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।