আমেদাবাদঃ  প্রশ্নপত্রে ‘গরুর রচনা লেখ’ দেখলেই গরুর চারটে পা, দুটো শিং ব্লা ব্লা ব্লা লিখে একদম শেষে গরুর গোবর খুব উপযোগী জিনিষ। এ থেকে জ্বালানী তৈরি হয় সঙ্গে আরও কিছু কার্যকরী উপকারিতা দিয়ে দিলেই একদম দশে দশ। এক নিঃশ্বাসে ঝড়ের গতিতে এই মুখস্থ বিদ্যা খাতায় লেপে দেয় ক্ষুদেরা। গোরুর দান এই গোবরের আরও এক নতুন উপকারিতা আবিষ্কার করেছেন রূপেশ গৌরাঙ্গ দাস। তাঁর দাবি , প্রবল গরমে নিজের চার চাকা গাড়িকে ঠাণ্ডা রাখতে এক এবং একমাত্র উপায় হল গাড়িতে গোরুর গোবর লেপে দেওয়া। একদম ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল থাকবে আপনার গাড়ি।

রূপেশ শুধু বলেই খান্ত নন। নিজের গাড়ির উপর গোবর লেপে তিনি পরীক্ষাও করে ফেলেছেন। চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে , গাড়ির ছাদ থেকে ভিতরকার বডি পার্ট সব একদম ঠাণ্ডা। সেই ছবি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ছবি দেখলে মনে হবে গাড়িতে ম্যাট ফিনিশ রং দেওয়া হয়েছে। তা একেবারেই নয়, মহারাষ্ট্রের যুবক হোয়াটস অ্যাপে একটি পোস্ট পেয়েছেন। সেটাই তিনি তাঁর সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। যেখানে আহমেদাবাদের এক মহিলার কথা উল্লেখ কড়া রয়েছে যিনি গোবর লেপে গাড়ি ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করেছেন।

রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা/ এমন কেন সত্য হয় না আহা! ভাববেন না রূপেশের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। নিজের গাড়ির উপর এই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। রূপেশ গৌরাঙ্গ দাস ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমার দেখা গোবরের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থেকে বাঁচতে ও গাড়িতে গরম হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে মিসেস সেজল শাহ তাঁর গাড়িকে গোবর দিয়ে প্লাস্টার করেছেন।’ পোস্ট করা দুটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, সেডান গাড়িটি সম্পূর্ণ গোবরে লেপা। গ্রামাঞ্চলে মাটির বাড়ি ঠাণ্ডা রাখতে গোবর লেপার চল রয়েছে। তবে এ ভাবে গাড়িতে গোবর লেপার ঘটনা সত্যিই অভিনব।

বছর আঠাশের যুবক রূপেশ মহারাষ্ট্রের মাতুঙ্গায় ইস্কনের হয়ে কাজ করে। ইস্কন তাদের নিজস্ব উদ্যোগে কলেজ পড়ুয়াদের বেস কিছু কাজে নিয়োগ করছে যা সমাজের কাজে লাগছে পাশাপাশি ওই পড়ুয়াকে ব্যবসা করে নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হতে শেখাচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ধ্যান ধারনাও তৈরি করে দিচ্ছে। সেই প্রজেক্টের অঙ্গ হিসাবে কাজ করছেন মুম্বইয়ের রূপেশ।

গোবর একটি জৈব পদার্থ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ও পরিবেশ সুরক্ষায় গোবর বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। জৈব সার হিসেবে, পুকুর পরিষ্কারক হিসেবে, মাছের খাদ্য হিসেবে, ময়লা-আবর্জনা পচনকারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামে পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত গোবর সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে জ্বালানি তৈরি করা হয়। এই জ্বালানি তারা বর্ষা মরসুমে ব্যবহার করেন। এই জ্বালানি একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে ঠিক তেমনই আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী।

যাদের গরু আছে কেবল তারাই নন বরং যাদের গরু নেই তারাও এই গোবর নানানভাবে সংগ্রহ করে জ্বালানি তৈরি করেন। এই জ্বালানি তৈরি করে অনেকে বিক্রি করেন। গোবর কেবল জ্বালানি হিসেবে নয় বরং জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সার শাকসবজির ক্ষেতসহ ধানের ক্ষেত্রে অনেকে ব্যবহার করেন। গোবর সার মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি করে এবং মাটির স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে। গ্রামাঞ্চলে কলাগাছ, আমগাছ, কাঁঠালগাছ আমড়াগাছ লাগানোর পর গরু ছাগলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাছের পাতায় গোবর ছিটিয়ে দেয়া হয় যাতে গাছগুলো নষ্ট না হয়।