আগ্রা: মৃত্যু বড় বেদানাদায়ক। লকডাউনের জেরে এমনই এক মর্মান্তিক মৃত্যুর সাক্ষী থাকল খোদ রাজধানী দিল্লি। একে শনিবার। তার উপর দেশজোড়া লকডাউন চলছে। কার্যত এই অবস্থায় কোনও গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেছিলেন রনবীর সিং নামের বছর ৩৯ এর এক যুবক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সশরীরে বাড়ি পৌঁছতে পারলেন না রনবীর। বাড়ি পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তাঁর নিথর দেহ।

শনিবার, লকডাউনের পঞ্চম দিনে এমন এক বেদানাদায়ক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল দেশের রাজধানী। কারন, রাজধানী দিল্লির একটি রেস্তরাঁয় ডেলিভারি বয়ের কাজ করত রনবীর সিং (৩৯)। ওই যুবকের ৩টি সন্তানও রয়েছে। তবে এক নিমষেই করোনার জন্য বদলে গিয়েছে গোটা চিএটাই। না তবে, ওই যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। দীর্ঘপথ হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় কাল হল ওই যুবকের। কারন, আগ্রা থেকে দিল্লি প্রায় ২০০কিমি পথ পায়ে হেঁটে আসায় হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবক রনবীরের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে।

সেই রাজ্যের মোরিনা জেলার বাদফারা গ্রামে। তাঁর এক ছেলে এবং দুই মেয়েও রয়েছে। গরিব চাষি পরিবারের ওই যুবক বছর তিনেক ধরে দিল্লির তুঘলকবাদে কাজ করত। গত বৃহস্পতিবার সে মোরিনা জেলা থেকে গন্তব্য আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলো। কিন্তু লকডাউনের জেরে রাস্তায় কিছু না থাকায় প্রায় ২০০ কিমি পথ পায়ে হেঁটেই চলে যায় রনবীর। কিন্তু, এনএইচ ২ এর কাছে এসে একটা দোকানের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। আর চলতে পারেননি রনবীর। এদিকে তার এই অবস্থা দেখে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন ওই দোকানের মালিক। তিনি রনবীরকে একটা মাদুরের ওপর শুইয়ে দেন।

এছাড়াও তাকে খাবার খাওয়ার কথা বলেন ওই দোকানদার। যদিও, কিছুই মুখে তোলেননি রনবীর। এই অবস্থায় সে ওই দোকানিকে জানায় তার খুব বুকে ব্যথা হছে। এছাড়াও ততক্ষনে রনবীর বাড়ির লোককেও ফোন করে তার এই অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাড়ির লোক আসার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রনবীর সিং। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় স্থানীয় হাসপাতালে।

যদিও তার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দীর্ঘপথ হাঁটার ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে রনবীরের ভাই সিধু সিং বলেন, ” আমরা অত্যন্ত গরীব। একটু বেশী উপার্জনের আশায় তিনবছর ধরে আমার দাদা দিল্লিতে কাজ করছে। কিন্তু এমন দিন যে আসবে তা কখনও ভাবতেই পারিনি। পরিবারের একমাএ রোজগেরে বড় দাদার মৃত্যুতে অথৈ জলে পড়ল আমাদের পরিবার।”