সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আর জি করের ২০০ ইন্টার্ন চাইছেন প্রকৃত স্বাস্থ্য সুরক্ষা। তাঁদের দাবীকে জোরালো করতে সঙ্গ দিচ্ছে এবিভিপি। সরকারের কাছে তাঁদের দাবী যেন এই শিক্ষানবিশ ছাত্রদের সঠিক মাস্ক সহ আরও প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল কীট যেন দেওয়া হয়। ইন্টার্নদের স্বাস্থ্য সরক্ষার স্বার্থেই তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছে গেরুয়া ছাত্র সংগঠনটি। প্রয়োজনে রাজু জুড়ে তাঁদের আন্দোলন শুরু হবে।

এবিভিপি পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ‘কলকাতা এবং হাওড়ার কোভিড হাসপাতাল গুলোতে ইতিমধ্যেই উপচে পড়েছে কোভিড রোগীর ভিড়। বাড়ছে কোভিড আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা। কলকাতায় দুই একটি বড় প্রাইভেট হাসপাতাল এবং কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ছাড়া জেলার কোভিড হাসপাতাল গুলোর পরিকাঠামো এবং পরিষেবাতে চূড়ান্ত অভাব এবং অব্যবস্থা। সংক্ষেপে কোভিড আক্রান্ত সিরিয়াস রুগীর চিকিৎসার পরিকাঠামো প্রায় কোনো জায়গাতেই এ রাজ্যে গড়ে ওঠেনি এমতাবস্থায় আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রায় ২০০ জন ইন্টার্ন(২০২০-২১ ব্যাচ) সরকারের প্রতি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেয়। তারা জানায়,সরকার কেন সমস্ত ফ্রন্ট লাইনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের NIOSH অনুমোদিত নয় এমন মাস্ক পরে পরিষেবা দিতে বাধ্য করছে? কেন স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে এখনও পর্যাপ্ত সংখ্যক PPE, থার্মাল স্ক্রিনিং মেশিন, NIOSH অনুমোদিত N95 মাস্কস ও হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আরও নানান সমস্যার কথা তারা জানাচ্ছেন। এর মাধ্যমেই রাজ্যের নাম করা সরকারি হাসপাতালের ভিতরের ভগ্নদশার প্রকৃত চেহারাটা আবারও রাজ্যের মানুষের সামনে ফুটে উঠছে।’ তাই নিজেদের স্বার্থে এবং আগামীর হবু চিকিৎসকদের জন্য সঠিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দাবী করছে এবিভিপি।

এই প্রসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জন সরকার বলেন, ‘দিনের পর দিন ন্যূনতম কোনও ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই মেডিক্যাল ইন্টার্ন থেকে ডাক্তার সকলকে করোনা সন্দেহে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ সার্জিকাল মাস্কই তাঁদের একমাত্র ভরসা। আর তার জেরেই বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে ৭ জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তারপরেও তাদেরকে তেমন সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না কেন? রাজ্যে সরকার তার জবাব দিক।’

বিদ্যার্থী পরিষদ মনে করে, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্নদের জারি করা বিজ্ঞপ্তির অনেক দাবীই ন্যায়সঙ্গত। তাই সরকার যদি ইন্টার্নদের দাবী মেনে যথাযথ ব্যবস্থা শীঘ্রই না নেয় তাহলে আগামী দিনে বিদ্যার্থী পরিষদ সারা রাজ্যে জুড়ে আন্দোলনে নামবে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব