বোকারোঃ গোটা দেশজুড়ে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। কঠিন সময়েও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঠিক রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংক কর্মীরা। তাঁদের জন্যে একগুচ্ছ সুবিধার কোথা ঘোষণা করা হলেও গোটা দেশেই ব্যাংক কর্মীদের করোনাতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে ব্যাংক কর্মীদের।

তেমনই সংক্রমণের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার জন্য শিল করে দেওয়া হল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার তিনটি ব্রাঞ্চ। ওই তিন ব্রাঞ্চ মিলিয়ে মোট আটজন করোনা সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আর এরপর এসবিআইয়ের শাখাগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশপাশি ওই আটজনের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, করোনাতে সংক্রমিত হওয়া আটজনই ব্যাংক কর্মী। ব্যাংকের অন্যান্য কর্মীদেরও করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বোকারোতে। এছাড়া প্রশাসনের তরফে আগামী সপ্তাহের জন্য ৭২ টি মাইক্রো কনটাইনমেন্ট জোন তৈরি করা হয়েছে। ক্রমেই বোকারোতে করোনার হার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্যই প্রশাসনের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই সপ্তাহে বুধবার ৭১ জনের আক্রান্তের খবর সামনে এসেছে। যা সর্বোচ্চ হিসাবে বলা হচ্ছে। এসডিও সশি প্রকাশ সিং প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছেন যে সকল এসবিআই ব্যাংক কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন তাদের দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং শুরু করতে। এর ফলে আক্রান্তদের পাশপাশি যারা ওই ব্যাংক কর্মীদের কাছাকাছি এসেছেন তাদেরও সুবিধা হবে।

এর আগেই এইচডিএফসি্‌ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কয়েকটি শাখাকে সিল করা হয়েছিল। জেলার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রধান শক্তি কুমার জানিয়েছেন এই মুহূর্তে মোট ১৩১ টি কনটাইনমেন্ট জোনের মধ্যে মাইক্রো কনটাইনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৭২ রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই কনটাইনমেন্ট জোনগুলিতে ইতিমধ্যে লক ডাউনের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে জানানো হয়েছে আপাত ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছেন বলেও জানিয়েছেন ডিসি রাজেশ সিং। পাশপাশি সকলেই যাতে নির্দেশিকা মেনে চলেন সেই বিষয়েও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দেশজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শেষ ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হলেন ৬২ হাজার ৬৪ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭ জনের।

তুন করে সংক্রমণের জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫ জন। এরমধ্যে অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৪৫ টি। করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা বর্তমানে ১৫ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি। দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৮৬ জনের।

দৈনন্দিন করোনা টেস্টের হারে খুব শীঘ্রই নয়া মাইলফলক তৈরী করতে চলেছে আমাদের দেশ ভারত। কোনও ব্যক্তি করোনা সংক্রামিত কিনা তা জানতে ব্যাপক হারে চলছে করোনা টেস্টিং। প্রতি মিনিটে পাঁচশো টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে এবার সম্ভবত কমতে চলেছে করোনার প্রকোপ। মনে হচ্ছে আসল সুখবর আসতে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ৪০ শতাংশ করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে কোনও উপসর্গ নেই, অর্থাৎ তাঁরা অ্যাসিম্পট্যোম্যাটিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রকম উপসর্গহীন করোনাই ধীরে ধীরে ছড়াবে। যার ফলে একসময় করোনার বিশেষ কোনও উপসর্গ আর থাকবে না। এতেই করোনার প্রকোপ কমার দিকে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও